ডিএ জট কাটাতে নবান্নে ১ জুনের বৈঠক! সুপ্রিম কোর্টে সময় চাইল রাজ্য ও কর্মচারীরা

বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) আদায়ের লড়াই এখন নতুন সরকারের নবান্নের বারান্দায়। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার শুনানিতে দুই পক্ষই মামলাটি মুলতবি রাখার আর্জি জানায়, যাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোর বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে। শীর্ষ আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত পিছিয়ে দিয়েছে।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ ও রাজ্যের আর্জি: বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন রাজ্যের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলোকে আলোচনায় ডেকেছেন। আগামী ১ জুন বিকেল ৫টায় এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তাই এই আলোচনার স্বার্থে আদালতকে আজকের মতো শুনানি মুলতবি রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
কর্মচারীদের অবস্থান: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পক্ষে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, তাঁরা ইতিমধ্যেই আলোচনার জন্য সরকারি আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন। তারাও চান সরকার ও কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসুক। তবে, দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কর্মচারীদের আইনজীবী আদালতের কাছে আর্জি জানান, যাতে আদালত এমন কোনো নির্দেশ জারি করে যার মাধ্যমে তিন মাসের মধ্যে ডিএ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং পুজোর আগেই বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আদালতের নির্দেশ: সমস্ত পক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ২২ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে। ওইদিনই রাজ্য সরকারকে ডিএ মেটানোর বিষয়ে সাম্প্রতিক অগ্রগতি সংক্রান্ত একটি ‘স্ট্যাটাস রিপোর্ট’ বা স্টেটাস রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আগের নির্দেশ ছিল, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কিস্তিতে মেটাতে হবে। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় বিষয়টি আদালত অবমাননা পর্যন্ত গড়ায়। গত ৪ মে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর, নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বকেয়া আদায়ের নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।
এখন রাজ্য সরকার নবান্নের বৈঠকে কী সমাধানসূত্র বের করে এবং জুলাই মাসে আদালতে কী রিপোর্ট পেশ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী।