পলাতক ৩ শিম্পাঞ্জিকে যে কারণে গুলি করে হত্যা, সমালোচনার জবাব দিলো কর্তৃপক্ষ

পাঁচটি শিম্পাঞ্জি সুইডেনের শহর ফুরুভিকের চিড়িয়াখানা থেকে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে তিনটিকে গুলি করে মারা হয়েছে। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
জানা যায়, চিড়িয়াখানাটিতে থাকা মোট সাতটি শিম্পাঞ্জির মধ্যে পাঁচটি বুধবার দুপুরে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার পলাতক চারটি শিম্পাঞ্জিকে মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গুলি করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মারা যায় এবং একটি আহত হয়। বাকি শিম্পাঞ্জিগুলো এখন চিড়িয়াখানায় রাখা হয়েছে।

চিড়িয়াখানাটি বর্তমান মৌসুমে দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। সেখানকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘুমের ওষুধ ব্যবহার না করে কেন প্রাণীদের গুলি করা হয়েছে― এমন প্রশ্নে চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত চিড়িয়াখানা থেকে কোনো পশু পালিয়ে গেলে তাদের ঘুমের ওষুধ মেশানো তীর নিক্ষেপ করে ঘুম পাড়ানো হয়। তারপর ধরে আবার খাঁচায় ভরা হয়। এক্ষেত্রে শিম্পাঞ্জির ওপর ঘুমের ওষুধ কাজ করাতে গেলে খুব কাছ থেকে তীর ছুড়তে হতো। সেজন্য গুলি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

কর্তৃপক্ষের দাবি, শিম্পাঞ্জি দেখতে শান্ত হলেও খুবই বিপজ্জনক প্রাণী। তারা দ্রুত চলাচল করে। তাদের কোনো ভয়ডর নেই। খুবই শক্তিশালী। তারা কোনো মানুষের জীবন বিপন্ন করতে চাননি। তাই ঘুমের ওষুধ মেশানো তীর নিক্ষেপ করা হয়নি। ওই তীর শুধু যে খুব কাছ থেকে চালাতে হয় তা-ই নয়, শিম্পাঞ্জির শরীরে তার প্রতিক্রিয়া হতে ১০ মিনিট সময় লাগে। চিড়িয়াখানায় তারা পশুদের খুবই যত্ন নেন। তারা পশুগুলোকে খুবই ভালোবাসেন। এক্ষেত্রে চরম সিদ্ধান্ত নেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল।

সুইডেনে চিড়িয়াখানা থেকে এর আগেও পশুদের পালানোর নজির রয়েছে। অক্টোবরের শেষে স্টকহোমের ওপেন এয়ার মিউজিয়াম থেকে একটি কিং কোবরা পালিয়েছিল।