বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া কি শুরু? অনুপ্রবেশ রুখতে মরিয়া কেন্দ্র!

দেশের বিভিন্ন রাজ্যের সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে কেন্দ্রীয় অন্দরে। অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াটিকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কেন্দ্র। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যা বিন্যাস নিয়ে সতর্কবার্তার পর এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

শুভেন্দুর তোপ ও রাজনৈতিক চাপ
এই ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপয়েন্টে বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারীর জমায়েত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “জনগণের করের টাকায় এদের আর ভরণপোষণ করা যাবে না।” তাঁর দাবি, এতদিন ভোটব্যাংকের রাজনীতির কারণে আইন প্রয়োগ করা হয়নি, কিন্তু এখন সময় এসেছে কঠোরভাবে আইন কার্যকর করার। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্য-রাজনীতিতে বড় বিতর্ক তৈরি করতে চলেছে।

কী বলছে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন?
পুরো বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক স্বচ্ছ অবস্থান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “কাউকে ভেরিফিকেশন ছাড়া বর্ডার ক্রস করানো সম্ভব নয়। তালিকা তৈরি করে যথাযথ সিটিজেনশিপ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রমাণ মিললে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত নিতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এটি একটি রুটিন প্রক্রিয়া।”

তবে তিনি আরও স্বীকার করেছেন যে, মাঝেমধ্যে নথিপত্র বা কাগজপত্রের অভাবে ভেরিফিকেশনের কাজে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে দিল্লি থেকে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকৃত নাগরিক অযথা সমস্যার সম্মুখীন না হন।

কেন এই তোড়জোড়?
নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে গিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করা হচ্ছে। হাকিমপুরসহ দেশের বিভিন্ন সীমান্তে অনুপ্রবেশকারীদের ভিড় বাড়ায় প্রশাসন এখন আরও সতর্ক। আইনত ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কত দ্রুত এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, এখন সেদিকেই নজর থাকবে বিশেষজ্ঞ মহলের।