উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি আর নিরাপদ নয়! হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ফের হুঁশিয়ারি দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। মঙ্গলবার এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো আর ‘নিরাপদ’ থাকবে না। যুদ্ধের এই আবহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।
লিখিত বিবৃতিতে কী বললেন খামেনি?
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বার্তায় মোজতবা খামেনি বলেন, “সময়ের চাকা আর উল্টো দিকে ঘুরবে না। আঞ্চলিক দেশগুলো আর মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে আর কোনো নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাবে না।” এছাড়া তিনি আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইকে ‘ইসলামী প্রতিরোধের বিজয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুদ্ধের পরিস্থিতি ও দোহা আলোচনা:
বর্তমানে কাতার ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। তবে দুই দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছে, বড় ধরনের কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা আপাতত কম। যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা সত্ত্বেও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জারি রয়েছে।
নিরাপত্তার খাতিরে আত্মগোপনে খামেনি:
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-এর সময় মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর, ৮ই মার্চ মোজতবা খামেনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বর্তমানে অজ্ঞাতবাসে রয়েছেন এবং অত্যন্ত সীমিত যোগাযোগের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করছেন। এমনকি ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তিনি সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণ:
খামেনির এই বিবৃতির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পাতার চেষ্টাকারী নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। ৮ই এপ্রিল থেকে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, সাম্প্রতিক এই সামরিক সংঘর্ষের ফলে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী পথ হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সমীকরণ বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।