“শান্তিনিকেতনে চিকিৎসা-বিপ্লব!”-এইমসের আদলে মেডিক্যাল কলেজ তৈরির পরিকল্পনা বিশ্বভারতীর

বোলপুর ও শান্তিনিকেতনবাসীর দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে এবার বড় পদক্ষেপ নিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ‘এইমস’-এর ধাঁচে একটি অত্যাধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। উপাচার্যের বিশেষ উদ্যোগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে একসূত্রে গাঁথতেই এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনা ও পরিকাঠামো: প্রস্তাবিত এই প্রতিষ্ঠানের নাম হতে পারে ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’। বিশ্বভারতী সূত্রে খবর, বর্তমান ক্যাম্পাসের অন্তর্গত ‘পিয়ারসন মেমোরিয়াল হাসপাতাল’ এবং ‘দীনবন্ধু এন্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল’—এই দুটি হাসপাতালকে ভবিষ্যতে মেডিক্যাল কলেজের মূল কাঠামোর সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
কেন এই উদ্যোগ? শান্তিনিকেতন ও বোলপুর এলাকায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার বড় অভাব রয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মানুষকে এখনও কলকাতা বা দুর্গাপুরের মতো দূরবর্তী শহরে ছুটতে হয়। এমনকি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও চিকিৎসার প্রয়োজনেই শান্তিনিকেতন ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখেই এবং আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে এই প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বাস্তবায়নের পথ: প্রাথমিক আবেদন ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত করতে তিনটি প্রধান সংস্থার অনুমোদনের প্রয়োজন:
-
জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (NMC)
-
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক
-
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার
প্রভাব: এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে উঠলে কেবল আশ্রমিক, শিক্ষার্থী বা স্থানীয় বাসিন্দারাই উপকৃত হবেন না, পর্যটকরাও বড়সড় স্বাস্থ্যসুরক্ষা পাবেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়ারা আধুনিক শিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং শান্তিনিকেতনের শিক্ষা-সংস্কৃতির সঙ্গে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।
সব মিলিয়ে, সরকারি ছাড়পত্র মিললেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই বিদ্যাপীঠে চিকিৎসা-বিপ্লবের নতুন এক ইতিহাস রচিত হতে পারে বলে আশা রাখছে সংশ্লিষ্ট মহল।