সীমান্তে ‘স্মার্ট বর্ডার’ অডিট! ১৫ জুন রাজ্যে অমিত শাহ, অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া বার্তার প্রস্তুতি

দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সীমান্ত সুরক্ষায় ‘ডিটেক্ট-ডিলিট-ডিপোর্ট’ নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় হয়ে উঠল সাউথ ব্লক। ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তকে পুরোপুরি নিশ্ছিদ্র ও দুর্ভেদ্য করে তুলতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ, মঙ্গলবার থেকে দেশের চার সীমান্ত রাজ্যে এক হাই-প্রোফাইল সফরে বেরোচ্ছেন। এই সফরসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হলো পশ্চিমবঙ্গ।

সফরের শুরু রাজস্থান থেকে
সোমবার রাতেই রাজস্থানের বিকানেরে পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আজ তিনি ভারত-পাক সীমান্তের ‘সাঁচু’ বিএসএফ পোস্ট পরিদর্শনের পাশাপাশি ‘প্রহরী সম্মেলন’-এ যোগ দেবেন। এরপর বিকানেরে সীমান্ত লাগোয়া পাঁচ জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক এবং বিএসএফ কর্তাদের নিয়ে এক মেগা বৈঠক করবেন তিনি। রাজস্থানের পর ২৯ মে গুজরাটের ভুজ ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘হারামি নালা’ এলাকা পরিদর্শনে যাবেন শাহ। এরপর ৫ জুন তাঁর গন্তব্য ত্রিপুরা।

১৫ জুন বাংলায় অমিত শাহ
জুন মাসের মাঝামাঝি, অর্থাৎ ১৫ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পা রাখছেন পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্য রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মূল উদ্দেশ্য: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের ফাঁকফোকর ভরাট করা এবং ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা।

উচ্চপর্যায়ের বৈঠক: রাজ্যের স্পর্শকাতর বিএসএফ পোস্ট পরিদর্শনের পর তিনি জেলাশাসক (DM), পুলিশ সুপার (SP), নবান্নের শীর্ষ আমলা এবং বিএসএফ প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

কড়া বার্তা: সীমান্তের ওপার থেকে জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফি বদলে দেওয়ার যে আশঙ্কা রয়েছে, তা রুখতে বিএসএফ-এর সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনকে সমন্বয় রেখে কাজ করার কড়া নির্দেশ দিতে পারেন তিনি।

কী এই ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প?
প্রথাগত নজরদারির বদলে আগামী এক বছরের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করার লক্ষ্যে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: এই প্রকল্পে ড্রোন, অত্যাধুনিক রাডার, থার্মাল ক্যামেরা এবং সেন্সর প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি ‘ইম্পেনিট্রেবল সিকিউরিটি গ্রিড’ বা দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয় তৈরি করা হচ্ছে।

লক্ষ্য: অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা, ভোটার তালিকা থেকে অবৈধ নাম বাদ দেওয়া এবং দ্রুত বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।

বাংলার সীমান্ত এলাকায় এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কাজের ব্লু-প্রিন্ট খতিয়ে দেখাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। রাজ্যে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সীমান্ত সফর ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় এক নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।