“খুন, গুন্ডামি, দাদাগিরি…?”-জেনেনিন ‘দাগী’ BDO প্রশান্ত বর্মন কতটা মারাত্মক?

দীর্ঘদিনের গা ঢাকা দিয়ে থাকা খুনের মামলার মূল অভিযুক্ত, অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মন অবশেষে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে। সোমবার রাতে নিউটাউনে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটানো এবং পথচারীদের সঙ্গে দাদাগিরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের এই বিতর্কিত প্রাক্তন সরকারি আধিকারিক।
কী ঘটেছিল সোমবার রাতে? প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সোমবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ নিউটাউনের সারচী সিগন্যালের কাছে প্রশান্ত বর্মনের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক বাইক আরোহীকে সজোরে ধাক্কা মারে। গুরুতর আহত হন ওই বাইক চালক। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি গাড়িটি আটকান। অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর নিজের ভুল স্বীকার করা তো দূরের কথা, বরং গাড়ি থেকে নেমে প্রশান্ত বর্মন মদ্যপ অবস্থায় স্থানীয়দের সঙ্গেই অশালীন আচরণ ও হুমকি দিতে শুরু করেন। ঘটনার ভিডিও করতে গেলে স্থানীয় এক যুবককেও তিনি হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ইকো পার্ক থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
কে এই প্রশান্ত বর্মন? প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি দীর্ঘ। গত ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর যাত্রাগাছির খালপাড় থেকে স্বপন নামে এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়। ওই খুনের ঘটনায় নিহতের পরিবার সরাসরি প্রশান্ত বর্মনের দিকে আঙুল তোলে। রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে দীর্ঘ সময় তিনি তদন্তের বাইরে ছিলেন। তবে মামলাটি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট তাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিলেও, তিনি তা অমান্য করে গা ঢাকা দেন। রাজগঞ্জের বিডিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা প্রশান্তকে সেই সময় অপসারিত করে তৎকালীন সরকার। কিন্তু আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এতদিন তিনি পলাতকই ছিলেন। সোমবার রাতে নিউটাউনের রাস্তায় মদ্যপ অবস্থায় ‘দাদাগিরি’ দেখাতে গিয়েই শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা দিলেন বহু প্রতীক্ষিত এই অভিযুক্ত।