‘কসাবের ক্ষেত্রেও কি একই নিয়ম হতো?’ দিল্লি দাঙ্গা নিয়ে বড় পদক্ষেপ মোদী সরকারের

সন্ত্রাসে যুক্ত থাকা কিংবা হিংসায় উস্কানি দেওয়া—অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল মোদী সরকার। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার মামলায় ইউএপিএ (UAPA)-র অধীনে ধৃতদের জামিন আবেদনের শুনানির সময় কেন্দ্র সরকার আদালতে এক স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিল। কেন্দ্রের আইনজীবীরা সাফ জানিয়ে দিলেন, গুরুতর সন্ত্রাসবাদী অপরাধের ক্ষেত্রে “জামিনই নিয়ম, জেল ব্যতিক্রম”—এই নীতি অন্ধভাবে প্রয়োগ করা সমীচীন নয়।

কসাবের উদাহরণ টেনে কেন্দ্রের যুক্তি
দিল্লি হাইকোর্টে চলা শুনানিতে কেন্দ্রের আইনজীবীরা অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “শুধুমাত্র বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে কি কসাবকে জামিন দেওয়া হতো?” জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কেন্দ্র মনে করছে, গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু সময় অতিক্রান্ত হয়েছে বলেই অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়া যায় না। আইনজীবীরা উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যদি পাকিস্তান থেকে হাফিজ সাঈদকে ধরে এনে পাঁচ বছর জেলে রেখেও বিদেশ থেকে তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করা হয়, তবে কি কেবল সময় পেরিয়ে গেছে বলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে?” সন্ত্রাস ও দাঙ্গার মামলাকে সাধারণ ফৌজদারি মামলার সাথে এক সারিতে রাখা যায় না বলেই কেন্দ্রের দাবি।

দাঙ্গা কি ‘পরিকল্পিত হিংসা’?
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছিল, তাতে ৫৩ জনের প্রাণ গিয়েছিল এবং শতাধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছিলেন। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছিল, এটি নিছক সংঘাত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল। অস্ত্র সরবরাহ, ভিড় জড়ো করা এবং হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্তদের অনেকের বিরুদ্ধেই ইউএপিএ-র ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই কেন্দ্র জানাচ্ছে, এ ধরনের ঘটনা সাধারণ ফৌজদারি আইন দিয়ে বিচার করা হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’ বনাম ‘জাতীয় নিরাপত্তা’
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আদালতে সন্ত্রাস ও দাঙ্গার অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আদালত অনেক ক্ষেত্রে ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’কে প্রাধান্য দিয়ে জামিন মঞ্জুর করলেও, কেন্দ্র এটিকে বিপজ্জনক বলে মনে করছে। সরকারের আশঙ্কা, শুধুমাত্র বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার অজুহাতে অভিযুক্তদের ছেড়ে দিলে সমাজে ভুল বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা আরও ঘটার সম্ভাবনা বাড়বে।

নিহতদের পরিবার এবং দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার যে কোনো আপস করতে নারাজ, তা এদিনের শুনানিতে স্পষ্ট। এই কঠোর অবস্থানের ফলে দিল্লি দাঙ্গার অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার পথ যে আরও কঠিন হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।