কুণাল ঘোষের অফিসে বিক্ষোভ! বিধায়ককে ঘিরে ‘চোর’ স্লোগান, উত্তাল বেলেঘাটা

বেলেঘাটার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুনর্বাসন ও পাকা ঘর পাওয়ার দাবিতে বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন বাসিন্দারা। রবিবার রাতে স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর অফিসে থাকাকালীন তাঁকে ঘিরে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি মতো পাকা বাড়ি না পেয়ে দীর্ঘ দিন ধরে টিনের চালের অস্থায়ী ঘরে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের।

বিক্ষোভের কারণ কী?
স্থানীয়দের দাবি, পুরনো বিধ্বস্ত আবাসন ভেঙে নতুন পাকা ফ্ল্যাট তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ, মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও স্থানীয় কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী। তাঁদের প্রতিশ্রুতি ছিল—পুরনো জমি ছাড়লে একই জায়গায় ‘টু রুম অ্যাটাচ বাথ’ ফ্ল্যাট দেওয়া হবে। কিন্তু অভিযোগ, পুনর্বাসন হিসেবে যে ঘরগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত ছোট এবং টিনের চালযুক্ত। প্রায় ১৫০-এর বেশি পরিবার এখনও নিজেদের ঘর বুঝে পাননি।

কী বললেন কুণাল ঘোষ?
পুরো ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর বয়ান অনুযায়ী:

কেএমডিএ (KMDA)-র দায়িত্ব: কুণাল ঘোষ স্পষ্ট করেছেন যে, এই আবাসন প্রকল্পটি কেএমডিএ-র অধীনে। ফ্ল্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধায়ক হিসেবে তাঁর কোনো আইনি ক্ষমতা নেই।

কাজের গতি নিয়ে ক্ষোভ: প্রকল্পের কাজের গতি নিয়ে তিনিও সন্তুষ্ট নন। তিনি জানিয়েছেন, কেএমডিএ-কে বারবার কাজের গতি বাড়াতে বলা হয়েছে। সিইএসসি (CESC) সংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে দেরি হচ্ছে।

রাজনৈতিক চক্রান্তের অভিযোগ: বিধায়কের দাবি, বিক্ষোভের মাঝে কিছু মানুষ ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আগেও ওই এলাকায় গিয়েছি, কেউ কোনো অভিযোগ জানাননি। হঠাতই বিজেপির রাজনৈতিক আচরণ স্পষ্ট হয়ে উঠল।”

জনপ্রতিনিধির ভূমিকা: তিনি জানিয়েছেন, আজ (সোমবার) কেএমডিএ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রকল্পের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হবে। বিরোধীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “এখন যেহেতু সরকার বদলেছে, তারাও যেন তাদের সরকারকে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য চাপ দেয়।”