‘নন্দীগ্রাম আমার ভদ্রাসন’, আসন ছাড়লেও মানুষের পাশে থাকার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর, সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রবিবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে নিজের ‘ভদ্রাসন’-এর বাসিন্দাদের আবেগঘন ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।

নন্দীগ্রামকে বিদায়, কিন্তু সম্পর্কে ইতি নয়
রবিবার নন্দীগ্রামে আয়োজিত এক অভিনন্দন জ্ঞাপন সভায় মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রশাসনিক বা সাংবিধানিক কারণে আসন ছাড়লেও, নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক অটুট থাকবে। তিনি বলেন, “আগে যেমন নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে ছিলাম, এখনও সেভাবেই তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকব।”

ভাইয়ের ওপর বিশেষ আস্থা
নন্দীগ্রামের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, উন্নয়নমূলক কাজ এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের দেখভালের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাই তথা বিজেপি সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে ‘বিশেষ দায়িত্ব’ অর্পণ করেছেন। শুভেন্দু আশ্বস্ত করেছেন, “নির্বাচনী প্রচারে নন্দীগ্রামকে যে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা অক্ষরে অক্ষরে পালনের দায়িত্ব এখন সৌমেন্দুর। আপনাদের কোনো অসুবিধা হবে না।”

তৃণমূলকে কড়া হুঁশিয়ারি
শুধুমাত্র আবেগ নয়, এই সভা থেকে রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতিও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতের বঞ্চনা ও রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “তৃণমূল জমানায় নন্দীগ্রামের যে উন্নয়ন আটকে ছিল, তা দ্রুত গতি পাবে। আর মনে রাখবেন, অতীতে যা যা ঘটেছে, কোনও কিছুরই হিসাব আমি ভুলিনি। সবকিছুরই যথাযথ হিসাব হবে।”