তৃণমূল থেকে কি এবার বিদায়? মা কাকলিকে কঠিন বার্তা দিলেন ছেলে বৈদ্যনাথ, সামনে আনলেন পারিবারিক ঐতিহ্যের ইতিহাস

তৃণমূল কংগ্রেসে সাম্প্রতিক বড় রদবদল এবং সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। জেলা সভাপতির পদ ছাড়ার পর কাকলিদেবীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই মা’কে নিয়ে এক দীর্ঘ ও ইঙ্গিতপূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট করলেন তাঁর ছেলে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার।

কী বলেছেন বৈদ্যনাথ?
বৈদ্যনাথের এই পোস্টকে নিছক আবেগপ্রবণ বার্তা বলা যায় না, বরং এটি এক গভীর রাজনৈতিক দর্শন। তিনি পোস্টে সরাসরি দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং অপরাধের সঙ্গে রাজনীতির সংযোগ নিয়ে সরব হয়েছেন। বৈদ্যনাথের মতে, রাজনীতি এখন আর মানুষের সেবার ক্ষেত্র নেই, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিযোগিতায় পর্যবসিত হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য তৃণমূলের একাংশের ওপরই বড় আঘাত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পারিবারিক উত্তরাধিকারের দোহাই:
মায়ের রাজনৈতিক জীবনের এই কঠিন সন্ধিক্ষণে বৈদ্যনাথ তাঁকে মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁর পরিবারের রক্তে মিশে থাকা লড়াইয়ের ইতিহাস:

গুরুদাস দাশগুপ্ত (মামা): তিনি স্মৃতিচারণ করেছেন কীভাবে শ্রমিক আন্দোলনের কিংবদন্তি গুরুদাসবাবু বোম্বেতে দুর্নীতিবাজ শিল্পপতি বা সংসদে হর্ষদ মেহতা কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে গেছেন। এমনকি শ্রমিকের রক্তমাখা জামা নিয়ে সংসদে প্রতিবাদ করার কথা উল্লেখ করে তিনি মা’কে সেই আপসহীন সংগ্রামের পথ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন।

অরুণ মৈত্র (জ্যেঠু): স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অরুণ মৈত্রের আদর্শের কথা বলতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, নির্বাচনে হারের পর পেট চালানোর জন্য যিনি চা পাতা বিক্রি করেছেন, সেই সততা যেন কাকলিদেবী বজায় রাখেন।

ছেলে কি তবে অন্য কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছেন?
বৈদ্যনাথের এই পোস্টের শেষাংশটিই সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, “মায়ের সামনে এখন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।” তিনি মা’কে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নির্ভীক অবস্থান গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছেন। অনেকের মতে, এই পোস্ট কাকলিদেবীকে বর্তমান তৃণমূল থেকে সরে এসে নতুন কোনো পথ বেছে নেওয়ার একপ্রকার পরোক্ষ পরামর্শ।

রাজনৈতিক জল্পনা:
সম্প্রতি কাকলি ঘোষ দস্তিদারের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পাওয়া এবং এরপর জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা—পুরো বিষয়টিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি এবং তাঁর পরিবার দলের বর্তমান নীতি ও ‘আইপ্যাক’-এর কর্মপদ্ধতি নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তুষ্ট। ছেলের এই ফেসবুক পোস্ট কি কাকলিদেবীর আগামী দিনের রাজনৈতিক পদক্ষেপের পূর্বলক্ষণ? এই প্রশ্নই এখন রাজনৈতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে।