‘জেলে যেতে হবে না তো?’ কাউন্সিলরের পরামর্শে জল সংযোগ নিয়ে বিপাকে মালদার বাসিন্দারা

পুরাতন মালদা পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সারদা কলোনির নীচুপাড়ায় এখন চরম আতঙ্ক। পুরসভাকে না জানিয়ে বেআইনিভাবে জলের মেইন লাইন থেকে ব্যক্তিগত সংযোগ নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় প্রায় ৩৫টি পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। পুলিশি নোটিশ হাতে পেয়ে রাতের ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের।
কী ঘটেছে?
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকট ছিল। দীর্ঘদিনের দাবির পরেও সরকারিভাবে সংযোগ না মেলায় স্থানীয় কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ হালদারের ‘পরামর্শেই’ তাঁরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কলমিস্ত্রি ডেকে পুরসভার মেইন লাইন থেকে বাড়িতে জলের সংযোগ নেন। বাসিন্দাদের দাবি, কাউন্সিলর বলেছিলেন এতে কোনো অসুবিধা হবে না। এখন সেই সংযোগকেই ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে পুরসভার পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ভয়ের কারণ:
পুলিশের পাঠানো নোটিশে জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করা হয়েছে। যা শুনে রীতিমতো দিশেহারা তৃপ্তি রায়, অনীতা দত্তের মতো বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, “আমরা তো জল চেয়েছিলাম, অপরাধী হতে চাইনি। এখন নোটিশ পেয়ে জেল খাটার ভয় পাচ্ছি।”
কাউন্সিলর বনাম পুরসভা:
কাউন্সিলরের বক্তব্য: কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ হালদার অবশ্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “মানুষের জলকষ্ট লাঘব করতে আমি শুধু তাঁদের পথ দেখিয়েছিলাম, কোনো টাকা নেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।”
পুর কর্তৃপক্ষের অবস্থান: অন্যদিকে, পুরাতন মালদা পুরসভার চেয়ারম্যান বিভূতিভূষণ ঘোষের সাফ কথা, “পুরসভার অনুমতি ছাড়া মেইন লাইন থেকে সংযোগ নেওয়া সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ কাজ। বেআইনি কাজ করলে কাউকেই রেয়াত করা হবে না।” তিনি আরও জানান, এই বেআইনি সংযোগে সাহায্যকারী এক কলমিস্ত্রিকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
পুরসভা ও পুলিশের এই কঠোর অবস্থানে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠছে, শাসকদলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বলি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একদিকে তীব্র জলকষ্ট, অন্যদিকে আইনি বিপাক—দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে এখন নাভিশ্বাস উঠছে ওই ৩৪-৩৫টি পরিবারের।