‘ফোন নম্বর দিয়ে দেবো, সমস্যা জানাবেন’,ভবানীপুরে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সোমবার সন্ধ্যায় একটি সংবর্ধনা সভায় যোগ দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভায় উপস্থিত থেকে তিনি ভবানীপুরের মানুষের জন্য এক বিশেষ আশ্বাস প্রদান করেন। উন্নয়নের কাজ আরও ত্বরান্বিত করতে এবং মানুষের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য তিনি খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ফোন নম্বর চালু করার কথা ঘোষণা করেছেন।

ভবানীপুরের উন্নয়নে নতুন অধ্যায় সংবর্ধনা সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছর ধরে ভবানীপুরের বিধায়করা কী কাজ করেছেন, তা নিয়ে এলাকার মানুষ অন্ধকারে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী, পুরো রাজ্যের দায়িত্ব আমার। তবে ভবানীপুরের উন্নয়নে আমি বিশেষ নজর দেব। এখন থেকে আপনারা বুঝতে পারবেন উন্নয়ন কাকে বলে।”

‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ ২০২৬-এর নির্বাচনে ভবানীপুর আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই জয় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বিধানসভা কেন্দ্রে একসময় ভয়ের পরিবেশ ছিল। এখন মোদীজির নেতৃত্বে রাজ্যে ‘ভয় আউট’ আর ‘ভরসা ইন’ হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ যাঁদের অতীতে নানাভাবে ভয় দেখানো হয়েছিল, তাঁদের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ আশ্বাস তিনি দিয়েছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স কেবল উন্নয়নই নয়, রাজ্যের দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, আগের সরকারের আমলে যে ‘কাটমানি’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলেছিল, তা ভবানীপুরসহ পুরো রাজ্যে আর বরদাস্ত করা হবে না। সেই লক্ষ্যে তিনি ইতিমধ্যেই দুর্নীতি তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ ভবানীপুরের মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াল। সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের জন্য ফোন নম্বর চালুর এই উদ্যোগটি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।