ফলতার পরে এ বার নন্দীগ্রাম, ব্যবধান বাড়ানোর টার্গেট দিলেন শুভেন্দু

নন্দীগ্রামের মাটিতে টানা তিনবার জয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের ১,৯৫৬ ভোটের ব্যবধান বাড়িয়ে ২৬-এর নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়েছেন ৯,৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে। শুধু নন্দীগ্রামই নয়, শুভেন্দুর নেতৃত্বে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ১৬টি আসনেই পদ্ম ফুটেছে। রবিবার এই জয়ের পর নন্দীগ্রামে এক বিশাল সংবর্ধনা সভায় যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করলেন, নন্দীগ্রাম ছাড়লেও এ মাটির মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক অটুট।

‘শুভেন্দু আপনাদের সঙ্গেই থাকবে’ সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে ভবানীপুর বিধায়ক হিসেবে শপথ নিলেও, নন্দীগ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সভায় আবেগপ্রবণ শুভেন্দু বলেন, “সংবিধানের নিয়ম মেনে আমাকে নন্দীগ্রাম ছাড়তে হয়েছে, কিন্তু একদম দূরত্ব তৈরি করবেন না। আমি আপনাদের সঙ্গেই ছিলাম, আপনাদের সঙ্গেই থাকব। আমি যা কথা দিয়েছি, সব অক্ষরে অক্ষরে পালন করার দায়িত্ব আমার।”

উপনির্বাচনের রণকৌশল নন্দীগ্রাম আসনে উপনির্বাচন নিশ্চিত। আর সেই নির্বাচনকে সামনে রেখেই রবিবার বড় পদক্ষেপ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। উপনির্বাচনের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়ে গেছেন তিনি। কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই কমিটিতে জেলার নবনির্বাচিত বিধায়করাও রয়েছেন।

‘ফলতা মডেল’-এর পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন রবিবারই ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বিজেপি প্রায় ১ লক্ষের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। সেই জয়ের অনুপ্রেরণায় নন্দীগ্রামের আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, ফলতার মতো নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবেন। তবে এখনও প্রার্থী হিসেবে কার নাম চূড়ান্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি।

পূর্ব মেদিনীপুরে গেরুয়া দাপট পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিজেপির এই নিরঙ্কুশ জয় ও ৫৬ শতাংশ ভোট পাওয়ার ঘটনা যে রাজ্যে বিজেপির ভিতকে আরও মজবুত করল, তা বলাই বাহুল্য। বিরোধী দলনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন হওয়ার পর এই প্রথম নন্দীগ্রামে সভা করতে এসে শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস এবং কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, রাজনীতির সমীকরণ বদলালেও নন্দীগ্রামের মন এখনও তাঁর দখলেই রয়েছে।