সর্বনাশ করে গেছে আইপ্যাক!’ পদত্যাগ করে বিস্ফোরক কাকলি ঘোষ দস্তিদার, মমতাকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের অস্বস্তির মেঘ। এবার জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সরব হলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলীয় নেতৃত্বের একাংশের ব্যর্থতা এবং ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর কর্মপদ্ধতি নিয়ে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি যেভাবে পদত্যাগ করেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
পদত্যাগের নেপথ্যে ‘সর্বনাশ’:
ঘনিষ্ঠ মহলে কাকলি ঘোষ দস্তিদার অভিযোগ করেছেন, দলের কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আইপ্যাকের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ স্থানীয় স্তরে সংগঠনের ‘সর্বনাশ’ করে দিয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব না দিয়ে বাইরের পরামর্শদাতাদের কথায় দল চালানোয় সাংগঠনিক কাঠামো চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে। কাকলিদেবীর সাফ কথা, “এভাবে দল চলতে পারে না, তাই আমি আর এই দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত থাকতে চাই না।”
মমতাকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য:
সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো, এই ইস্তফার পাশাপাশি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করলেও তাঁর কার্যপদ্ধতি নিয়ে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি এমন এক পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ তুলেছেন যেখানে দলের বর্ষীয়ান নেতাদের মতামতকে কার্যত ‘উপেক্ষা’ করা হচ্ছে। দলীয় সুপ্রিমোর কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়া তথ্যে বিভ্রান্তি থাকছে কি না, সেই প্রশ্নও তিনি ঘুরিয়ে তুলেছেন বলে সূত্রের খবর।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরে আইপ্যাকের ভূমিকা নিয়ে দলের স্থানীয় নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এবার একজন প্রভাবশালী সাংসদ ও জেলা সভাপতির এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ সেই ক্ষোভকে নতুন মাত্রা দিল। বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে এখন ক্ষমতার লড়াই চরমে। দলের ‘আদি’ বনাম ‘আইপ্যাক’ দ্বন্দ্ব যে এবার বিস্ফোরক আকার ধারণ করেছে, তা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের পদত্যাগই প্রমাণ করে।
এই ঘটনার পর তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয়, নাকি আরও বড় কোনো ভাঙন অপেক্ষা করছে—সেদিকেই এখন নজর রাখছে রাজ্য রাজনীতি।