‘ব্যাঙ্কে ছিল মাত্র ৫৬ টাকা!’ পরম বন্ধু থেকে কাজ হারানো, টলিপাড়ার অন্ধকার নি

সৃজনশীলতা আর রাজনীতির দোলাচলে অনেক সময় সম্পর্কের সমীকরণ বদলে যায়। টলিপাড়ার পরিচিত মুখ, অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবনের নানা চড়াই-উতরাই নিয়ে মুখ খুললেন এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে। উঠে এল তাঁর জীবনের চরম দারিদ্র্যের দিনগুলো থেকে শুরু করে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ হারানোর নেপথ্যের লড়াই।
‘অ্যাকাউন্টে ছিল মাত্র ৫৬ টাকা’:
নিজের অতীতের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রুদ্রনীল বলেন, আজকের এই সাফল্যের আড়ালে এক দীর্ঘ লড়াই রয়েছে। এক সময় তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাত্র ৫৬ টাকা পড়ে থাকত। তিনি জানান, সেই সময় অভাবের তাড়নায় বন্ধুদের আড্ডায় যাওয়ার সাহস পেতেন না, কারণ বন্ধুরা তাঁকে নেমন্তন্নই করত না। মানুষের ব্যবহার আর পরিস্থিতির চাপে কতটা কঠিন সময়ে তিনি কাটিয়েছেন, তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেতা।
পরম বন্ধু থেকে কাজ হারানো:
টলিপাড়ায় পরম মিত্রদের সঙ্গে দূরত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতির রঙ কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে, তা তিনি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। একদা যাঁদের ‘পরম বন্ধু’ বলে মনে করতেন, আজ তাঁদের সঙ্গেই কাজের ক্ষেত্রে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সরাসরি নাম না নিলেও তিনি ইঙ্গিত করেছেন, রাজনৈতিক আদর্শ ভিন্ন হওয়ার কারণেই অনেক সময় টলিপাড়ায় কাজ থেকে তাঁকে ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছে।
অকপট রুদ্রনীল:
অভিনয় থেকে সরে যাওয়া বা কাজ না পাওয়ার বিষয়ে রুদ্রনীল বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ হারানোর ভয় অনেকেই পান, কিন্তু আমি ভয় পাই না। মতাদর্শগত ফারাকের জন্য যদি কাজ না পাওয়া যায়, তবে সেটা ইন্ডাস্ট্রিরই দৈন্যদশা।” তিনি আরও জানান, অনেক সময় অনেক কাজ তাঁর হাত থেকে চলে গিয়েছে শুধু রাজনীতির কারণে। কিন্তু তিনি মনে করেন, শিল্পীর আসল পরিচয় তাঁর কাজে, কোনো রাজনৈতিক তকমায় নয়।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বহু হিট ছবির উপহার দেওয়া রুদ্রনীল আজ রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয়। কিন্তু অভিনয়ের মঞ্চ আর বাস্তবের রাজনীতির লড়াই—দুই ক্ষেত্রেই তিনি আজ একাই লড়ছেন। এই সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বুঝিয়ে দিয়েছেন, তিনি কোনো কিছুর বিনিময়ে নিজের নীতি বিসর্জন দিতে রাজি নন।