ডায়মন্ড হারবারে ‘পুষ্পা’র ভরাডুবি! ফলতা জয়ী বিজেপি, খাসতালুকে ধাক্কা তৃণমূলের?

ডায়মন্ড হারবারের ‘দুর্গ’ বলে পরিচিত ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে এবার গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেল ঘাসফুল। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের মূল পর্বের পর, রবিবার ফলতা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে রেকর্ড গড়েছেন। এই জয়ের ফলে এ রাজ্যে বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়ে হলো ২০৮।
একতরফা জয় বিজেপির ভোট গণনার শুরু থেকেই ফলতায় ছিল বিজেপির দাপট। মোট ২২ রাউন্ড শেষে দেবাংশু পণ্ডা পেয়েছেন ১,৪৯,৬৬৬টি ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআই(এম)-এর শম্ভুনাথ কুর্মি পেয়েছেন ৪০,৬৪৫টি ভোট। তবে সবথেকে চমকপ্রদ হলো তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের পরাজয়। ভোটের ময়দান থেকে নাটকীয়ভাবে রণেভঙ্গ দিয়ে নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করা জাহাঙ্গীর খান পেয়েছেন মাত্র ৭,৭৮৩টি ভোট। এমনকি তিনি নিজের জামানতটুকুও বাঁচাতে পারেননি।
শীর্ষ নেতৃত্বের ‘নিস্পৃহতা’ ও ব্যর্থতা ২০১১ সাল থেকে ফলতা ছিল তৃণমূলের অভেদ্য ঘাঁটি। কিন্তু ৪ মে-র ভোটে ব্যাপক অনিয়ম ও বুথ দখলের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল করায় পুনরায় নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উদাসীনতা। খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হওয়া সত্ত্বেও, তৃণমূলের কোনো শীর্ষ নেতা বা খোদ দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই কেন্দ্রে প্রচার করতে দেখা যায়নি। এই ‘নিস্পৃহতা’ তৃণমূল কর্মীদের মনোবল তলানিতে নামিয়ে দেয়।
‘সিংহম’ বনাম ‘পুষ্পা’র লড়াইয়ের সমাপ্তি নির্বাচনের আগে এই কেন্দ্রটি শিরোনামে উঠে এসেছিল তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খান এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক (আইপিএস) অজয় পাল শর্মার দ্বন্দ্বের কারণে। এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মাকে উদ্দেশ্য করে জাহাঙ্গীর খান দম্ভের সঙ্গে বলেছিলেন, “উনি যদি সিংহম হন, তবে আমি পুষ্পা!” রবিবারের ফলাফলের পর রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে, ‘সিংহম’-এর কড়া নজরদারি ও প্রশাসনিক চাপের মুখে অবশেষে ‘পুষ্পা’র অহঙ্কার যে ধুলোয় মিশেছে, তা ফলতার এই ফলাফলই প্রমাণ করল।
এই জয় বিজেপি কর্মীদের আত্মবিশ্বাস যে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, ডায়মন্ড হারবারের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে আর কী কী সমীকরণ বদলে দেয়।