হার মানতে নারাজ মমতা! ফলের ২০ দিন পরেও তৃণমূলের দাবি, ‘২২০টি আসন পাওয়ার কথা ছিল’

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও, পরাজয়ের গ্লানি এখনো কাটেনি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। গত ৪ মে নির্বাচনের যে ফলাফল সামনে এসেছিল, তাতে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়েছিল স্পষ্ট। তবে এই বিপর্যয়কে এখনো বাস্তব বলে মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্টে তাঁর দাবি, নির্বাচনী অঙ্কের হিসেবে এই হার একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ৪ মে-র সেই দিনটি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা। তবে ঘটনার ২০ দিন পর এসেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে শোনা গেল পুরনো সুর। দলীয় সূত্রে খবর, নেত্রী এখনও মনে করছেন যে তৃণমূলের হাতে ২২০ থেকে ২২৩টি আসন আসার কথা ছিল। ভোটের অংক ও দলীয় বুথ ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূলের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী, কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল সেই সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দেয়।

নির্বাচনী বিপর্যয় নিয়ে এখনও কেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন দাবি করছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের প্রকৃত রায়কে অস্বীকার করা তৃণমূলের নৈতিক পরাজয়কে আরও প্রকট করে তুলছে। অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যকে ‘বাস্তব থেকে বিচ্ছিন্নতা’ হিসেবেই দেখছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, নির্বাচনের পর দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও হারের কারণ বিশ্লেষণ না করে উল্টে আসনের সংখ্যা নিয়ে এমন মন্তব্য তৃণমূল নেত্রীর হতাশারই প্রতিফলন। এখন প্রশ্ন একটাই, জয়ের দাবি থেকে সরে এসে তৃণমূল কি আত্মোপলব্ধির পথে হাঁটবে, নাকি পরাজয়ের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকবে? বাংলার রাজনীতির আঙিনায় এই বিতর্ক এখন তুঙ্গে।