বিয়েতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকার পরিবারে রক্তগঙ্গা! নয়ডার নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য

বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক পরিবারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল নয়ডার হারোলা গ্রামে। শনিবার গভীর রাতে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হলো এক গৃহবধূর। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে লড়ছেন মেয়ে, ছোট বোন এবং বাবা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিহারের ছাপরার বাসিন্দা সুরেন্দ্র শর্মা হারোলা গ্রামের ‘বি’ ব্লকের একটি চারতলা বাড়িতে সপরিবারে ভাড়া থাকেন। তাঁর বড় মেয়ে জ্যোতির সঙ্গে বরেলির বাসিন্দা হরিরাম যাদবের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অভিযোগ, হরিরাম বারবার জ্যোতিকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু পরিবার সেই সম্পর্কে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত ছিল ওই যুবক।
শনিবার গভীর রাতে যখন পুরো পরিবার বাড়ির ছাদে ঘুমিয়ে ছিল, তখন আচমকাই ছুরি হাতে হামলা চালায় অভিযুক্ত হরিরাম। ৪০ বছর বয়সী সঞ্জু দেবীকে বেপরোয়াভাবে ছুরিকাঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর সে জ্যোতি, জুলি এবং সুরেন্দ্র শর্মাকেও ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এলেও ততক্ষণে ঘাতক চম্পট দিয়েছে।
পরিকল্পিত অপরাধ?
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত হরিরামের অপরাধমূলক অতীত রয়েছে। সে আগে ভুক্তভোগীর পরিবারের পাশের বাড়িতেই থাকত। তবে হামলার কয়েকদিন আগেই সে হঠাৎ ঘর বদল করে এবং বেশিরভাগ জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলে। জানা গেছে, জ্যোতির অন্য জায়গায় বিয়ের কথাবার্তা চলায় আগে থেকেই সে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল এবং প্রায়ই মারধর করত।
পুলিশি তদন্ত:
নয়ডার অতিরিক্ত ডিসিপি মনীষা সিং জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট এটি একটি প্রেমঘটিত সম্পর্কের জের। তিনি বলেন, “আমরা অভিযুক্তকে ধরার জন্য সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ঘটনার পর প্রায় ২০০ জন বাসিন্দা থাকা ওই পুরো ভবনটিতে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। পুলিশ খুনের মামলা এবং হত্যার চেষ্টার ধারায় একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।
পরপর দুটি মর্মান্তিক ঘটনা ও পরিবারের এমন পরিণতিতে শোকস্তব্ধ স্থানীয়রা। অপরাধীর দ্রুত কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।