কিশোরী মেয়ের মা-বাবা? সন্তানের মন বুঝতে মেনে চলুন এই ৪টি জরুরি কৌশল!

বয়ঃসন্ধিকাল হলো জীবনের এক সন্ধিক্ষণ। এই সময়ে শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক জগতেও আসে আমূল পরিবর্তন। বিশেষ করে কিশোরী মেয়েদের ক্ষেত্রে এই সময়টি আরও সংবেদনশীল। আবেগগত উত্থান-পতন, শারীরিক পরিবর্তন এবং মাসিক চক্রের শুরু—সব মিলিয়ে তারা প্রায়ই এক অস্থির অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়।

একজন অভিভাবক হিসেবে এই সময়ে কঠোর না হয়ে বন্ধুর মতো পাশে থাকা খুবই জরুরি। জেনে নিন চারটি বিষয় যা আপনার মেয়ের সঙ্গে আপনার সম্পর্ককে করবে আরও মজবুত:

১. শারীরিক পরিবর্তনকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা
বয়ঃসন্ধিকালে ওজন বৃদ্ধি, শারীরিক গড়নের পরিবর্তন বা ব্রণের মতো সমস্যা মেয়েদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরা ঠাট্টার ছলে এমন কিছু বলে ফেলেন যা মেয়ের মনে গভীর প্রভাব ফেলে। মায়েরা এক্ষেত্রে বন্ধুর ভূমিকা পালন করতে পারেন। মেয়ের শারীরিক পরিবর্তনগুলো যে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, তা তাকে বোঝান এবং কোনো অবস্থাতেই তাকে নিয়ে উপহাস করবেন না।

২. ‘নিখুঁত’ হওয়ার চাপ কমান
বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কিশোরীরা সারাক্ষণ ‘পারফেক্ট’ দেখানোর চাপে থাকে। ঘরকন্না, গায়ের রঙ থেকে শুরু করে আচরণ—সবকিছুতেই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই চাপ থেকে মুক্তি দিতে তার অনুভূতিগুলো গুরুত্বসহকারে শুনুন। সে যেন বুঝতে পারে, আপনার কাছে তার কোনো কিছু প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই; সে যেমন, তেমনই তাকে ভালোবাসা হয়।

৩. ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সম্মান জানান
কিশোর বয়সে নতুন কিছুর প্রতি কৌতূহল থাকা স্বাভাবিক। ভারতীয় পরিবারগুলোতে মেয়েদের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতা থাকে, যা তাদের মনের দুয়ার বন্ধ করে দিতে পারে। তার কথার মাঝে বাধা না দিয়ে শান্তভাবে শোনার অভ্যাস করুন। তার নিজস্ব কিছু জগৎ বা ব্যক্তিগত পরিসর (Privacy) আছে—সেটি স্বীকার করুন। তাকে দূরে ঠেলে না দিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করুন।

৪. নিরাপত্তার পাঠ হোক বন্ধুত্বের মোড়কে
বাইরে বেরোনো বা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কড়াকড়ি না করে সচেতন করুন। তাকে শেখান ইন্টারনেটে কীভাবে নিরাপদ থাকা যায় এবং কাদের সাথে বন্ধুত্ব করা সঠিক। তাকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখান। আপনার মেয়ে যেন সবসময় এটা অনুভব করে যে, কোনো বিপদে পড়লে সবার আগে সে আপনার কাছেই আসবে। এই ভরসার জায়গাটি তৈরি করাই হলো অভিভাবক হিসেবে সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শেষ কথা:
কিশোরী মেয়েদের আবেগ বোঝা কোনো কঠিন কাজ নয়, যদি আপনি তাকে শাসন করার বদলে বোঝার চেষ্টা করেন। মনে রাখবেন, একটি কিশোরী মেয়ে যখন তার বাবা-মায়ের মধ্যে বন্ধুকে খুঁজে পায়, তখন বাইরের জগতের কোনো প্রতিকূলতাই তাকে মানসিকভাবে ভেঙে ফেলতে পারে না।

Saheli Saha
  • Saheli Saha