বাংলায় যা ‘চুরির পুরস্কার’, কেরলে তা কীভাবে ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য’? রাহুল গান্ধীকে নিয়ে তুলকালাম রাজনৈতিক মহলে

অতীতে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে করা রাহুল গান্ধীর ‘চোর বাজার’ মন্তব্য এখন খোদ কংগ্রেসের দিকেই ফিরে এল। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সরকারি পদে নিয়োগ নিয়ে বাংলায় যে সুর চড়িয়েছিলেন রাহুল, সেই একই প্রেক্ষাপটে এবার কেরলের কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি এবং সিপিএম। এই ঘটনায় এখন দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
সম্প্রতি কেরলের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) ডঃ রথন ইউ কেলকারকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীসনের সচিব (Secretary) পদে নিয়োগ করা হয়েছে। আর এই নিয়োগের পরই প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং কংগ্রেসের দ্বিচারিতা নিয়ে।
রাহুল গান্ধীর পুরনো মন্তব্য ও বর্তমান বিতর্ক:
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে মুখ্য সচিব পদে নিয়োগের সময় রাহুল গান্ধী সোশ্যাল মিডিয়ায় বিঁধে লিখেছিলেন, “বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের এই ‘চোর বাজারে’ যে যত বড় চুরি করবে, সে তত বড় পুরস্কার পাবে।” সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে এবার ময়দানে নেমেছে বিজেপি ও সিপিএম। কেরলের বিজেপি নেতা কে সুরেন্দ্রন সরাসরি রাহুলকে আক্রমণ করে প্রশ্ন তুলেছেন, “তাহলে রাহুলজি, কেরলে যেটা হলো সেটা কী? এটাও কি ‘চুরির পুরস্কার’, নাকি হঠাৎ করে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হয়ে গেল?”
একই সুরে সিপিআই(এম)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পি রাজীব বলেন, “নির্বাচন শেষ হতে না হতেই একজন সিইও-র মুখ্যমন্ত্রীর সচিব হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের। রাহুল গান্ধী বাংলায় যে নিয়োগের সমালোচনা করেছিলেন, এবার কেরলের ঘটনা নিয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।”
কংগ্রেসের সাফাই:
বিতর্ক এড়াতে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছে কংগ্রেস। কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা দাবি করেছেন, ডঃ রথন কেলকার একজন অত্যন্ত দক্ষ অফিসার এবং তাঁকে কোন পদে বসানো হবে, তা সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারের এক্তিয়ার। এর মধ্যে নিয়মবহির্ভূত কিছু নেই বলেই দাবি করেছে কংগ্রেস।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
বামপন্থীদের দাবি, কেরলের ইতিহাসে এত দ্রুত কোনো সিইও-কে এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর নজির নেই। তাঁদের অভিযোগ, ভোটে কংগ্রেস জোটকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই এই পদ দেওয়া হয়েছে। একসময়ের প্রতিপক্ষকে বিঁধতে গিয়ে যে তির রাহুল গান্ধী ছুড়েছিলেন, তা এখন তাঁর দলের দিকেই ফিরে এসেছে। এখন দেখার, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে কী অবস্থান নেয়।