মহামেডানের চরম আর্থিক সংকট! পরিত্রাতা খুঁজতে এবার সরাসরি দুই বিধায়কের দ্বারস্থ শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব

অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে এবার কোমর বেঁধে নেমে পড়ল শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিং। লগ্নিকারী সংস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন, ফুটবলার ও কোচেদের বকেয়া বেতন এবং ফিফার নিষেধাজ্ঞার ভ্রূকুটি—সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে জর্জরিত সাদা-কালো শিবির। এই সংকট কাটিয়ে উঠতে এবার সরাসরি রাজ্যের দুই বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবীরের দ্বারস্থ হলো ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

কেন এই মরিয়া পদক্ষেপ?
গত কয়েক মরশুমে বাঙ্কারহিল সহ একাধিক লগ্নিকারী সংস্থা এলেও ক্লাবের সমস্যার সমাধান তো হয়নি, বরং জটিলতা বেড়েছে। আইএসএল-এ একটিও ম্যাচ না জিতে অবনমনের মুখে দাঁড়িয়ে থাকা মহামেডানের ভেন্ডার ও কর্মীদের বকেয়া মেটানোই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। সোশাল মিডিয়ায় বিধায়কদের ক্লাব নিয়ে আগ্রহের কথা জানতে পেরেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তারা।

চিঠিতে কী লিখলেন ক্লাব সচিব?
ক্লাব সচিব ইস্তেয়াক রাজু আহমেদ জানিয়েছেন, নওশাদ সিদ্দিকী এবং হুমায়ুন কবীর যেভাবে ক্লাবের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাতে তাঁরা আপ্লুত।

নওশাদ সিদ্দিকীকে লেখা চিঠিতে: ক্লাবের উন্নয়নে তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগের প্রস্তাব ও লগ্নি সংক্রান্ত রূপরেখা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে।

হুমায়ুন কবীরকে লেখা চিঠিতে: তাঁকে সরাসরি ক্লাব প্রশাসনে যোগ দিয়ে কর্তাদের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এছাড়াও বাঙ্কারহিল কর্তা দীপক সিংয়ের কাছেও ক্লাবের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

পরবর্তী লক্ষ্য:
সমস্যা না মিটলে এখানেই থামতে নারাজ মহামেডান। ক্লাবের কার্যকরী সভাপতি কামারউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তাঁরা রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও সাহায্যের আবেদন জানাবেন।

ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের বিপর্যয় রুখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। ময়দানের এই সংকটের আবহে সমর্থকরা তাকিয়ে রয়েছেন পরিস্থিতির দিকে।