ইনস্টাগ্রামে বিজেপি-কংগ্রেসকে টেক্কা দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কি ব্যান? রহস্য ঘনীভূত NEET বিতর্কে

NEET-UG ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে উত্তাল দেশ। এই বিক্ষোভ এখন কেবল পড়ুয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সোশ্যাল মিডিয়ার এক ডিজিটাল আন্দোলন রীতিমতো রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বনাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সংঘাত এখন শিরোনামে।

কী নিয়ে বিতর্ক?
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু পরোক্ষভাবে CJP-কে আক্রমণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “যারা পাকিস্তান এবং জর্জ সোরোসের দলবলের মধ্যে ফলোয়ার খোঁজে, তাদের জন্য করুণা হয়।” মন্ত্রীর এই ভারত-বিরোধী তকমা দেওয়ার পরই পালটা মুখ খোলেন CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তিনি তাঁর ফলোয়ারদের ডেটা শেয়ার করে চ্যালেঞ্জ জানান, “আমাদের ৯৪ শতাংশেরও বেশি দর্শক ভারতীয়। তাহলে দেশের পড়ুয়াদের কেন পাকিস্তানি বলা হচ্ছে?”

কীভাবে জন্ম এই ‘ককরোচ’ আন্দোলনের?
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আন্দোলনের নাম এসেছে খোদ প্রধান বিচারপতির একটি পর্যবেক্ষণ থেকে। ভুয়ো ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে বিচারপতি সূর্যকান্ত ‘ককরোচ’ (আরশোলা) এবং ‘পরজীবী’ শব্দগুলি ব্যবহার করেছিলেন। সেই শব্দকেই প্রতিবাদের হাতিয়ার করে দেশের বেকারত্ব ও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ান তরুণরা। মুহূর্তে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই পেজটি ফলোয়ারের নিরিখে বড় বড় রাজনৈতিক দলকেও ছাড়িয়ে যায়। NEET বিতর্কের পর প্রায় ১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এই মঞ্চে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তোলে।

রহস্যজনকভাবে উধাও পেজ ও অ্যাকাউন্ট:
অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেই প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে তাঁদের। CJP-র মূল ইনস্টাগ্রাম পেজ, তাঁর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট এবং এক্স হ্যান্ডেল সাসপেন্ড বা হ্যাক করা হয়েছে। এমনকি তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। অভিজিতের আক্ষেপ, “প্রশ্নপত্র ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে সত্যের আওয়াজ তোলা এই প্ল্যাটফর্মকেই পিষে ফেলা হচ্ছে।”

আপাতত “Cockroach is Back” নামে একটি নতুন ব্যাকআপ অ্যাকাউন্ট থেকে এই ডিজিটাল লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। NEET-UG দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে সরকার বনাম ছাত্রশক্তির এই লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।