“জুনের মধ্যেই শুরু নিয়োগের প্রস্তুতি!”-সমস্ত দফতরে শূন্যপদের তালিকা চাইল সরকার

রাজ্যের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এলো এক স্বস্তির খবর। বিভিন্ন দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে এক নজিরবিহীন উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সরকারি দপ্তরে খালি পড়ে থাকা হাজার হাজার শূন্যপদ চিহ্নিত করে দ্রুত তা পূরণের লক্ষ্যে সমস্ত দপ্তরকে আগামী ৩ জুনের মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।
কড়া নির্দেশ অর্থ দপ্তরের: রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে কাজের গতি বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষকে দক্ষ পরিষেবা প্রদানে এই ‘কম্প্রিহেনসিভ রিভিউ’ বা সামগ্রিক পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২২ মে অর্থ দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের স্বাক্ষরিত একটি অতি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রতিটি দপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে আঞ্চলিক ও ডিরেক্টরেট স্তরে কোথায় কত পদ খালি রয়েছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা তৈরি করতে হবে।
কী কী থাকছে নির্দেশিকায়? নবান্নের এই নির্দেশিকা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর। অর্থ দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী:
-
শূন্যপদের তালিকা এক্সেল (Excel) ফরম্যাটে পাঠাতে হবে।
-
অর্থ দপ্তরের দেওয়া নির্দিষ্ট টেমপ্লেটে কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।
-
তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় দপ্তরের প্রধান বা নোডাল অফিসারের অফিশিয়াল ইমেল আইডি থেকেই রিপোর্ট পাঠাতে হবে।
-
সরাসরি নিয়োগের (Direct Recruitment) প্রস্তাবের ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ বা ‘জাস্টিফিকেশন’ উল্লেখ করতে হবে।
কেন এই উদ্যোগ? প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় জনপরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এই ঘাটতি পূরণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। সরকারি কাজের গতি বাড়াতে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এই পদক্ষেপ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা।
আগামী ৩ জুন ডেডলাইন হিসেবে নির্ধারিত হওয়ায় এখন প্রতিটি দপ্তরেই শূন্যপদের তালিকা তৈরির কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে। নবান্নের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে বড় আকারের নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।