নেতা নয়, সেবক! শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে বসে মানুষের সমস্যার সমাধান খুঁজলেন বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ

টানা দুবার শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নির্বাচিত হয়ে এবার রেকর্ড ভোটে জয়লাভ করেছেন বিজেপির শঙ্কর ঘোষ। জয়ের আবহে গা ভাসিয়ে না দিয়ে, বরং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা পালনে রেকর্ড গড়ার পরপরই ময়দানে নেমে পড়লেন তিনি। রবিবার শিলিগুড়ির হৃদপিণ্ড বলে পরিচিত বাঘাযতীন পার্কে বসে সরাসরি সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ এবং চাহিদার কথা শুনলেন শঙ্কর।
জনতার মুখোমুখি শঙ্কর:
নির্বাচনী প্রচারের উত্তাপ শেষ হয়েছে আগেই। কিন্তু সাধারণ মানুষের থেকে দূরে না গিয়ে বরং তাদের কাছে আরও বেশি করে পৌঁছনোর লক্ষ্যে রবিবার বাঘাযতীন পার্কে এক মুক্ত আলোচনার আয়োজন করেন বিধায়ক। রেকর্ড ভোটে জয়ের পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক গণ-সংযোগ কর্মসূচি। পার্কের খোলা প্রাঙ্গণে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মুখোমুখি বসে তিনি দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন।
কী উঠে এল আলোচনায়?
শিলিগুড়ি পুরনিগম এবং বিধায়ক এলাকার সাধারণ নাগরিকরা এদিন জলের সমস্যা, রাস্তার দুরবস্থা, নিকাশি ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ পরিষেবার মতো নানা সমস্যা সরাসরি বিধায়কের সামনে তুলে ধরেন। শঙ্কর ঘোষ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে প্রতিটি অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
বিধায়কের বক্তব্য:
বাঘাযতীন পার্কে এই কর্মসূচির পর শঙ্কর ঘোষ বলেন, “জনগণ আমাকে বিপুল ভোটে জয়ী করে বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। আমার প্রথম দায়িত্বই হলো তাঁদের সমস্যার সমাধান করা। ভোটে জেতার মানে এই নয় যে আমি তাঁদের থেকে দূরে সরে যাব। তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনাই আমার কাছে সবথেকে বড় কাজ।”
রাজনৈতিক মহলে চর্চা:
নির্বাচনে জয়ের পর নেতার এমন জনসংযোগের ছবি দেখে শিলিগুড়ির রাজনীতির কারবারিরা বলছেন, শঙ্কর ঘোষ যেভাবে জনমতের মর্যাদা রাখছেন, তা বিরল। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে গিয়ে এভাবে পার্কের মতো জায়গায় বসে সাধারণ মানুষের সমস্যার কথা শোনা শিলিগুড়ির মানুষের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে। বিধায়কের এই ‘জনমুখী’ ভাবমূর্তি আগামী দিনে তাঁকে শিলিগুড়ির রাজনীতিতে আরও শক্তপোক্ত অবস্থানে বসাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এখন দেখার, এই আলোচনার পর শিলিগুড়ির নাগরিক সমস্যা সমাধানে বিধায়ক কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।