স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক! সরকারি নির্দেশে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন নাখোদা মসজিদের ইমাম

রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুল এবং মাদ্রাসাগুলিতে প্রতিদিন প্রার্থনা সভায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য সরকার। এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল। একদিকে সরকার যখন একে দেশপ্রেমের নিদর্শন হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে এই নির্দেশকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। এই আবহেই এবার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরব হলেন কলকাতার নাখোদা মসজিদের ইমাম।
ইমামের প্রশ্ন ও পর্যবেক্ষণ:
নাখোদা মসজিদের ইমাম সরকারের এই নতুন নিয়মের যৌক্তিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন। সূত্রের খবর, তিনি মূলত এই নির্দেশনার ‘বাধ্যতামূলক’ দিকটি নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইমামের মতে, দেশপ্রেম কোনো চাপিয়ে দেওয়া বিষয় নয়, বরং তা অন্তরের আবেগ। কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ভাবাবেগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলির ক্ষেত্রে এই ধরনের বাধ্যবাধকতা জনমানসে ভুল বার্তা দিতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। ইমামের স্পষ্ট বক্তব্য, জাতীয় স্তরে বা সরকারি অনুষ্ঠানে যে প্রথা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, হঠাৎ করে সব ক্ষেত্রে তাকে বাধ্যতামূলক করার নেপথ্যে থাকা উদ্দেশ্য নিয়ে সমাজ সচেতন মহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
সরকারি অবস্থান:
রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ এবং দেশপ্রেম জাগ্রত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদকেও এই নির্দেশিকা মেনে চলতে বলা হয়েছে। সরকারের দাবি, জাতীয় প্রতীক এবং জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাগরিক কর্তব্য।
রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও অহেতুক হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিতর্ক সৃষ্টির জন্য একটি অহেতুক ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কোনো নির্দিষ্ট বাধ্যবাধকতা চাপিয়ে না দিয়ে বরং আলোচনার মাধ্যমে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়েই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
নাখোদা মসজিদের ইমামের এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার ঢেউ উঠেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষা মহলে এখন বড় প্রশ্ন, সরকার কি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো নমনীয়তা দেখাবে, নাকি এই নির্দেশিকা অটুট থাকবে?
গোটা পরিস্থিতির দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।