ত্বিশা মৃত্যুকাণ্ডে নয়া মোড়! আজমের সফর নিয়ে বিবাদ? মুখ খুললেন স্বামী সমর্থ সিং

ভোপালে নববধূ ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য। ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে। স্বামীর বয়ান ও পরিবারের অভিযোগের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকায় ক্রমশ রহস্যের জট পাকছে। এরই মাঝে সত্য উদঘাটনে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের নির্দেশে আসরে নেমেছে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এর চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল।
স্বামী সমর্থ সিংয়ের দাবি ও পুলিশের জেরা:
পুলিশি জেরায় ত্বিশার স্বামী সমর্থ সিং দাবি করেছেন, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজস্থানের আজমের সফর নিয়ে তাঁদের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, গত পাঁচ মাসের দাম্পত্য জীবনে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়শই অশান্তি চলত। তবে সমর্থের বয়ানে বেশ কিছু অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছে পুলিশ। বিশেষ করে, গত ১৭ এপ্রিল ত্বিশার গর্ভধারণের খবর পাওয়ার পর থেকে তাঁর আচরণে পরিবর্তন এসেছিল বলে দাবি করেছেন সমর্থ। অথচ ত্বিশার পরিবারের অভিযোগ, গর্ভস্থ সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমর্থ নিয়মিত মানসিকভাবে হেনস্থা করতেন ত্বিশাকে, যা তাঁকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের অভিযোগ ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত:
প্রথম ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে গোড়া থেকেই ক্ষোভ ছিল ত্বিশার পরিবারের। তাঁদের দাবি, ত্বিশার বাঁ হাতে ও বাহুতে থাকা আঘাতের চিহ্নগুলি প্রথমবার বিশদভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। এছাড়াও ঘাড় ও সারভাইক্যাল অংশের রেডিওলজিক্যাল পরীক্ষা না হওয়ার মতো বড় গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। পণের জন্য অত্যাচারের অভিযোগও রয়েছে পরিবারের তরফে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে দিল্লি এইমস-এর বিশেষজ্ঞ টিম রবিবার সকালে ভোপালে পৌঁছেছে। আজই পুনরায় ত্বিশার দেহ ময়নাতদন্ত করা হবে, যা এই মামলার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মামলার গুরুত্ব:
এই ঘটনা এখন আর কেবল পারিবারিক অশান্তির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। গত ২৫ মে সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলা নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে, যা গোটা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
পুলিশ ও চিকিৎসকদের এই যৌথ প্রয়াস কি ত্বিশার রহস্যমৃত্যুর আসল কারণ সামনে আনবে? নাকি অভিযুক্তদের আড়াল করার কোনো চেষ্টা চলছে? সব মিলিয়ে শোরগোল এখন মধ্যপ্রদেশজুড়ে। তদন্তের পরবর্তী ধাপের দিকে তাকিয়ে আছেন সকলে।