শিলিগুড়িতে নতুন মডেল! সমস্যার সমাধানে সরাসরি মানুষের দুয়ারে ডা. শঙ্কর ঘোষ

শিলিগুড়ির রাজপথে এখন রাজনৈতিক সরগরম। এলাকার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত নাগরিক সমস্যা সমাধানে অভিনব উদ্যোগ নিলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক ডা. শঙ্কর ঘোষ। ‘সরাসরি শঙ্কর’ (Sorasori Shankar) কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি নিজেই নেমে পড়লেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে। সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে মানুষের অভাব, অভিযোগ ও পরামর্শ শোনার এই প্রয়াস ইতিমধ্যেই স্থানীয় মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
কেন এই কর্মসূচি?
সম্প্রতি উত্তরকন্যা সফরের সময় সাধারণ মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিধায়কের এই সরাসরি জনসংযোগের বার্তা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই নির্দেশ মেনেই রবিবার থেকে শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে শুরু হলো এই বিশেষ কর্মসূচি। বিধায়ক ডা. শঙ্কর ঘোষ জানান, এটি নিছক জনসংযোগ নয়, বরং মানুষের সমস্যার দ্রুত সমাধানের একটি প্রশাসনিক ধাপ।
কী বলছেন বিধায়ক?
ডা. শঙ্কর ঘোষ বলেন, “আমি আগেও নিয়মিত মানুষের কাছে যেতাম। তবে এখন আমরা সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সমস্যাগুলো সরাসরি শুনে সে অনুযায়ী নীতি নির্ধারণ এবং দ্রুত সমাধান করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এটি হবে সত্যিকারের ‘জনগণের সরকার’।” তিনি আরও যোগ করেন যে, শুধু সমস্যা শোনা নয়, প্রশাসনিক স্তরে গিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করাই এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।
ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সাধারণের ভিড়
রবিবার শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিধায়ককে কাছে পেয়ে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা। উঠে আসে জলনিকাশি ব্যবস্থার অবনতি, ভাঙাচোরা রাস্তা, আবর্জনা অপসারণ এবং বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো একাধিক মৌলিক সমস্যা। স্থানীয়দের কথায়, “বিধায়ককে আগে আমাদের পাশে পেতাম, কিন্তু এখন তিনি সরাসরি সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমাদের প্রত্যাশা অনেক বেড়েছে।”
সামাজিক সেবক ও রাজনীতিকের সমন্বয়
স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মতে, ডা. শঙ্কর ঘোষের এই কর্মসূচি তাঁর মানুষের প্রতি ভালোবাসার প্রতিফলন। রাজনীতিক পরিচয়ের বাইরে একজন ডাক্তার হিসেবেও তিনি দীর্ঘকাল মানুষের সেবা করে আসছেন। এই কর্মসূচি নিয়মিত চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দল, যেখানে প্রতি সপ্তাহে শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে হাজির থাকবেন বিধায়ক।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমাধানের এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনসংযোগের এই মডেল সরকার ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচিয়ে উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করতে পারে।