মঙ্গলের বুকে কে সাজাল পাথর? পারসিভেরান্সের নতুন ছবি ঘিরে শোরগোল!

মঙ্গলের ধুলোমাখা লাল প্রান্তরে ফের এক রহস্যময় ছবি! নাসার ‘পারসিভেরান্স’ রোভারের পাঠানো নতুন একটি ছবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। গত ১৩ মে, অর্থাৎ মঙ্গলের ১৮৫৯তম দিনে (সোল ১৮৫৯) রোভারের লেন্সে ধরা পড়েছে এমন এক দৃশ্য, যা রীতিমতো চমকে দিয়েছে বিজ্ঞানীদের।

ছবিতে ঠিক কী দেখা যাচ্ছে?
ছবির ফ্রেমবন্দি দৃশ্যে দেখা যাচ্ছে, তিনটি পাথর অত্যন্ত অদ্ভুতভাবে একে অপরের ওপর সাজানো। দেখে মনে হচ্ছে যেন কেউ নিখুঁতভাবে সেগুলো স্তূপ করে রেখেছে। এই দৃশ্যটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। নেটিজেনদের একাংশের প্রশ্ন, এটি কি কোনো প্রাকৃতিক ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কিছু?

কী বলছে নাসা ও বিজ্ঞানীরা?
এই অদ্ভুত পাথরের গঠন নিয়ে নাসা এবং ‘স্পেস ডট কম’-এর গবেষকরা অবশ্য কিছুটা ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের মতে, এটি আলাদা আলাদা পাথর নয়, বরং এটি একটি বিশাল পাথর খণ্ড। দীর্ঘ কোটি কোটি বছর ধরে প্রবল বাতাস এবং প্রাচীন জলস্রোতের ধাক্কায় পাথরটির মূল অংশ ক্ষয় হয়ে এই অদ্ভুত আকার ধারণ করেছে।

মঙ্গল কি আদপেই প্রাণহীন?
যদিও আজকের মঙ্গলগ্রহকে আমরা শুকনো ও প্রাণহীন বলেই জানি, কিন্তু বিজ্ঞানীরা আগেই প্রমাণ পেয়েছেন যে এককালে সেখানে নদী, হ্রদ এমনকি বৃষ্টিরও অস্তিত্ব ছিল। কিউরিওসিটি রোভারের দীর্ঘদিনের গবেষণায় উঠে এসেছে, পৃথিবীর মরুভূমির মতোই মঙ্গলের ভূপ্রকৃতি গঠনে বাতাসের ভূমিকা অপরিসীম।

উল্লেখ্য, মঙ্গলগ্রহে এমন আজব আকৃতির শিলাখণ্ড নতুন নয়। বিগত পাঁচ বছরে পারসিভেরান্স রোভার চিতা বাঘের ছোপের মতো পাথর, সুতোর মতো গঠন বা পপকর্নের মতো শিলাও খুঁজে পেয়েছে। এমনকি ১৯৭৬ সালে ভাইকিং ১-এর তোলা ‘Face on Mars’ বা ‘মঙ্গলের বুকে মুখ’-এর ছবি এক সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল, যা পরে প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গঠন বলেই প্রমাণিত হয়।

নতুন এই পাথরের গঠন নিয়ে বিজ্ঞানীরা আশাবাদী। তারা মনে করছেন, এই পাথরটি মঙ্গলের প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং তৎকালীন আবহাওয়া সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য আমাদের সামনে আনতে পারে।