অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার নিয়ম কী? আবেদনের আগে দেখে নিন নবান্নের জরুরি নির্দেশিকা।

পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের পরিধি বাড়িয়ে এবার নিয়ে আসা হচ্ছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। নবান্নের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১ জুন থেকে এই প্রকল্পের জন্য অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে যোগ্য মহিলারা মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।

কারা পাবেন এই সুবিধা?

  • বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সিরা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত নন।

  • আয়ের শর্ত: পরিবারের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।

  • অন্যান্য: আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। যাদের পাকা বাড়ি, চারচাকা গাড়ি বা ট্রাক্টর আছে, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।

কারা বাদ পড়বেন? সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী চাকরিজীবী, পেনশনভোগী, সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অশিক্ষক কর্মচারী, পুর ও পঞ্চায়েত কর্মীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এছাড়া, আয়কর প্রদানকারী কোনো মহিলাও এই যোজনায় আবেদন করতে পারবেন না।

আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত: যাঁরা বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। নতুন আবেদনকারীদের জন্য ১ জুন থেকে নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু হবে। আবেদনের পর ব্লক (BDO), মহকুমা (SDO) বা পুরসভা স্তরে তথ্য যাচাই করা হবে।

প্রয়োজনীয় নথি: আবেদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে সরকার বেশ কিছু নথি বাধ্যতামূলক করেছে:

  • বৈধ রেশন কার্ড।

  • আধার কার্ডের ফটোকপি (আধার কার্ডের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক)।

  • নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক, নতুবা ডিবিটি প্রক্রিয়ায় টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না)।

  • আয়ের শংসাপত্র ও বসবাসের প্রমাণপত্র।

নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি আবেদন কঠোরভাবে স্ক্রুটিনি বা যাচাই করা হবে। সমস্ত শর্ত পূরণ হলে তবেই সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে। নতুন এই উদ্যোগ রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ মহিলার আর্থিক স্বাবলম্বনের পথ প্রশস্ত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।