হনুমানজির আশীর্বাদ পেতে আজকের দিনে এই ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন, জানুন বিশেষ নিয়ম

হিন্দুধর্মে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতিটি মঙ্গলবার ‘বড় মঙ্গল’ হিসেবে পালিত হয়। তবে এই বছরের চতুর্থ বড় মঙ্গলবারটি অত্যন্ত বিশেষ এবং বিরল এক আধ্যাত্মিক সংযোগ নিয়ে এসেছে। এদিন একই সঙ্গে সংকটমোচন হনুমানজির ভক্তি ও জগৎপালক ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ লাভের এক মহাসুযোগ রয়েছে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই তিথিতে কিছু নিয়ম নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা জরুরি। সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে অশুভ পরিণতি।

যে ভুলগুলি ভুলেও করবেন না:

তামসিক খাদ্য বর্জন: বড় মঙ্গল ও একাদশীর পবিত্র সংযোগে মাংস, মদ, পেঁয়াজ ও রসুনের মতো তামসিক খাদ্য সম্পূর্ণ বর্জনীয়। এতে ব্রত ও পূজার ফল নষ্ট হতে পারে।

শান্তি বজায় রাখুন: হনুমানজি ভক্তি ও সেবার দেবতা। এই দিনে কোনো প্রকার ঝগড়া, ঘৃণা বা ক্রোধ প্রদর্শন অত্যন্ত অশুভ বলে মনে করা হয়। সারাদিন মনকে ইতিবাচক রাখুন।

অভাবীকে অবহেলা নয়: এই তিথিতে দানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কোনো অভাবী ব্যক্তিকে খালি হাতে ফেরাবেন না বা অপমান করবেন না। সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য বা বস্ত্র দান করুন।

নিয়ম ভাঙবেন না: ব্রত পালনের ক্ষেত্রে নিয়মনিষ্ঠা জরুরি। স্নান না করে পূজা বা উপবাসের নিয়ম লঙ্ঘন করা শাস্ত্রসম্মত নয়।

পূজার অর্ঘ্য নির্বাচনে সতর্কতা: হনুমানজির পূজায় তুলসী পাতা নিবেদন করা নিষিদ্ধ। অন্যদিকে, ভগবান বিষ্ণুর পূজায় তুলসী অনিবার্য। তাই পূজা করার সময় এই দুই দেবতার উপাচারে পার্থক্য বজায় রাখুন।

মিথ্যা ও প্রতারণা: আজকের দিনে চিন্তা, বাক্য ও কর্মে পবিত্রতা বজায় রাখুন। মিথ্যা বা অনৈতিক কাজ থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়।

কী করলে মিলবে বিশেষ আশীর্বাদ?

পাঠ: সকালে স্নান সেরে হনুমান চালিসা, সুন্দরকাণ্ড এবং বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ করা অত্যন্ত শুভ।

নিবেদন: হনুমানজিকে সিঁদুর, জুঁই ফুলের তেল ও বুন্দির লাড্ডু নিবেদন করুন। বিষ্ণু পূজায় হলুদ ফুল, তুলসী ও পঞ্চামৃত ব্যবহার করুন।

দান ও সেবা: মন্দিরে প্রসাদ বিতরণ, তৃষ্ণার্তকে মিষ্টি জল প্রদান এবং দুঃস্থদের অন্নদান করলে জীবনের সমস্ত দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।

বিশেষ সংযোগের তাৎপর্য:
ধর্মীয় বিশ্বাস মতে, জ্যৈষ্ঠের এই বড় মঙ্গল তিথিতে আন্তরিক হৃদয়ে বজরংবলীর সেবা করলে ভক্তের সমস্ত সংকট দূর হয়। আবার এদিন একাদশীর প্রভাব থাকায় ভগবান বিষ্ণুর কৃপাতেও জীবন ধন্য হয়। দুই দেবতার আশীর্বাদ লাভের এই বিরল সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিয়ম মেনে পূজা-অর্চনা করা প্রত্যেক ভক্তের জন্যই কল্যাণকর।