মহল্লায় আতঙ্ক ‘বান্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের! ইবোলা নিয়ে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল ভারত সরকার

আফ্রিকার দেশগুলিতে ইবোলা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেইন ‘বান্দিবুগিও’ (Bundibugyo)-র প্রাদুর্ভাব ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যেন কোনো ভারতীয় নাগরিক কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানে ভ্রমণ না করেন।

কেন এই সতর্কতা?
গত ১৭ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইবোলা পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ বলে ঘোষণা করেছে। এরপরই ‘আফ্রিকান সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (Africa CDC) এই প্রাদুর্ভাবকে মহাদেশীয় নিরাপত্তার জন্য জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে। বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের সংক্রমণ অত্যন্ত দ্রুত এবং এর ফলে মৃত্যুর হারও অনেক বেশি। উদ্বেগের বিষয় হলো, এই স্ট্রেইনের মোকাবিলায় এখনও পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়নি।

সরকারের নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছে:

ভ্রমণ সতর্কতা: অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়াতে নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলিতে সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।

নজরদারি: আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কোনো যাত্রী যদি অজানা জ্বরে আক্রান্ত হন, তবে তাকে অবিলম্বে শনাক্ত করে রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য টিপস: বর্তমানে ওই দেশগুলিতে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং রোগের লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। কোনো রকম উপসর্গ বা জ্বর দেখা দিলে বিলম্ব না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।

ভারতে পরিস্থিতি কী?
কেন্দ্রীয় সরকার আশ্বস্ত করেছে যে, এখনো পর্যন্ত ভারতে বান্দিবুগিও স্ট্রেইনের কোনো আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী, সরকার আক্রান্ত দেশগুলির পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখছে। প্রবেশপথগুলিতে অর্থাৎ বিমানবন্দর বা বন্দরে নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

ইবোলা এক প্রকার ভাইরাল হেমোরেজিক জ্বর। এই ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচতে সচেতনতাই এখন প্রধান অস্ত্র বলে মনে করছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মহল।