পাকিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা! কোয়েটায় জাফর এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণ, মৃত অন্তত ২৩

রবিবার সকালে এক ভয়াবহ নাশকতায় কেঁপে উঠল পাকিস্তানের কোয়েটা। চামান ফটকের কাছে জাফর এক্সপ্রেসে এক নৃশংস আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মজিদ ব্রিগেড। এই শক্তিশালী বিস্ফোরণে অন্তত ২৩ জন নিহত এবং ৫৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হামলার নেপথ্যে বিএলএ
ঘটনার পরেই বালোচ লিবারেশন আর্মির মুখপাত্র জিয়ান্দ বালুচ এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। বিএলএ-র দাবি, তাদের আত্মঘাতী ইউনিট ‘মজিদ ব্রিগেড’ এই অপারেশনটি পরিচালনা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে যাচ্ছিল জাফর এক্সপ্রেস। সেই সেনাদলকে টার্গেট করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই তারা সেনাবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত খতিয়ান প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে বিএলএ।

বিস্ফোরণের ভয়াবহতা
পুলিশ জানিয়েছে, চামান গেটের কাছে বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে জাফর এক্সপ্রেসের একটি আস্ত বগি মুহূর্তের মধ্যে আগুনের গ্রাসে চলে যায় এবং পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে রেললাইনের পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি বাড়ির দেওয়াল ধসে পড়েছে। রাস্তার ধারে পার্ক করে রাখা যানবাহনগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়েছে। জ্বলন্ত কোচ এবং ধ্বংসস্তূপ থেকে আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৫৩ জন আহতের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের ইঙ্গিত, সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর উদ্দেশ্যেই সুপরিকল্পিতভাবে ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে এই আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।

বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এবং আত্মঘাতী হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে ফরেন্সিক দল তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।