হুঙ্কার নয়, এবার আইনি পথ! পুরনিগমের নোটিসে কি ব্যাকফুটে অভিষেক?

রাজনীতির ময়দানে চিরকালই আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক মেজাজে পরিচিত তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করার জন্য তাঁর পরিচিতি রয়েছে। তবে এবার চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। নিজের ও পরিবারের মালিকানাধীন সম্পত্তির বেআইনি নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিস পাওয়ার পর, রাজনৈতিক হুঙ্কারের পরিবর্তে অভিষেক বেছে নিলেন আইনি পথ। কলকাতা পুরনিগমের কাছে সময় চেয়ে আবেদন করাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা।
পুরনিগমের কঠোর অবস্থান:
কলকাতা পুরনিগমের পক্ষ থেকে সাংসদের কালীঘাট ও হরিশ মুখার্জি রোডের সম্পত্তিতে অনুমোদনবিহীন নির্মাণের অভিযোগ তুলে নোটিস পাঠানো হয়। পুরসভার নির্দেশ অনুযায়ী, বেআইনি অংশ ভেঙে ফেলার জন্য সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। না হলে পুরসভা নিজেরাই ভেঙে ফেলার হুঁশিয়ারি দেয়। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কড়াকড়ির মুখে পড়ে কিছুটা হলেও চাপে পড়েছে সাংসদের পরিবার।
সুর নরম, না কি রণকৌশল?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাধারণত যে কোনো বিতর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। কিন্তু এবার পুরনিগমের নোটিসের জবাবে কোনো রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণের পরিবর্তে আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চাওয়াকে অনেকে ‘সুর নরম’ হিসেবেই দেখছেন।
অনেকে মনে করছেন, আইনি জটিলতা এড়াতে এবং সমস্ত নথিপত্র গুছিয়ে সঠিক জবাব দেওয়ার জন্য এটি একটি কৌশলী পদক্ষেপ। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, আইন সবার জন্য সমান এবং প্রশাসনিক চাপের মুখেই শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয়েছে তাঁকে।
কমিশনারের কোর্টে বল:
পুরনিগম সূত্রে খবর, কমিশনারের দপ্তরে এই আবেদন পৌঁছেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, সঠিক তথ্যাদি সংগ্রহের জন্য তাঁর সময়ের প্রয়োজন। এখন দেখার বিষয়, পুরনিগম কতখানি সময় মঞ্জুর করে।
এই ঘটনা কি তাঁর রাজনৈতিক ইমেজ বা আধিপত্যে কোনো প্রভাব ফেলবে? নাকি এটি কেবলই একটি আইনি প্রক্রিয়া? তা নিয়ে সরগরম শহরজুড়ে রাজনৈতিক অন্দরমহল।