‘সব লুট করেছে তৃণমূল, জেল তৈরি হচ্ছে!’ রবিবার সকালে হুঙ্কার দিলীপ ঘোষের

রবিবার সকালে রুটিন পরিবর্তন করে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল চত্বরে প্রাতঃভ্রমণে দেখা গেল বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা দিলীপ ঘোষকে। সেখান থেকেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্নীতি ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। তৃণমূলের পঞ্চায়েত ও পুরসভা ব্যবস্থাকে ‘লুটের আখড়া’ বলে কটাক্ষ করেন দিলীপ।

তৃণমূলকে হুঙ্কার:
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “পঞ্চায়েত আর পুরসভা এখন লুটের আখড়া। তৃণমূল সব লুট করেছে। এমএলএ-রা ৪ কোটি টাকার গাড়িতে ঘুরছেন, অথচ সরকারি তহবিলে টাকা নেই। পঞ্চায়েত প্রধানরা বড় বড় অট্টালিকা বানাচ্ছেন। যারা দুর্নীতি করেছে, তারা কেউ বাঁচবে না। জেল তৈরি হচ্ছে, তৈরি হলেই সবাইকে ডাকা হবে। মাটির তলা থেকে খুঁজে বের করা হবে।”

নিয়োগ দুর্নীতি ও ওএমআর বিতর্ক:
রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ বলেন, “গতকাল কেন্দ্রীয় সরকার ৫১ হাজার কর্মী নিয়োগ করেছে, যেখানে কোনো অভিযোগ নেই। অথচ ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরির তালিকা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে। সব নিয়মবিরুদ্ধ কাজ হয়েছে। ওএমআর শিট উদ্ধার হলে দুধের স্বাদ দুধ আর জলের স্বাদ জল আলাদা হয়ে যাবে।”

আরজি কর ও অন্যান্য ইস্যু:
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ জানান, ফাইল খুলে তদন্ত শুরু হয়েছে। মহিলা ও শিশুদের সুরক্ষার জন্য আলাদা কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং যোগ্য অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের বেহাল দশা এবং ডিএ (DA) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সব বিভাগে কর্মী নেই। কেন্দ্র সমান ডিএ দেওয়ার লক্ষ্যেই আমরা এগোচ্ছি। রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা অন্য খাতে নয়-ছয় করা হয়েছে।”

ফলতা নির্বাচন নিয়ে কটাক্ষ:
ফলতার ফলাফল নিয়ে তৃণমূলের ‘ঝুকেগা নেহি’ স্লোগানকে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, “তৃণমূল নির্বাচনের ময়দান ছেড়ে দিয়েছে। তারা স্লোগান দিয়েছিল ঝুকেগা নেহি, আর এখন ছুপ গয়া পুষ্পা!”

এদিন দিলীপ ঘোষের এই আক্রমণাত্মক বার্তা যে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন তৃণমূল শিবির এই মন্তব্যের কী পাল্টা জবাব দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।