রেলপথের উন্নয়নে নতুন গতি! বাংলায় আটকে থাকা ৬১টি প্রকল্পের জন্য জমি জট কাটালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যে পালাবদলের পরেই প্রশাসনিক তৎপরতায় রেলের দীর্ঘদিনের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজগুলোতে গতি এল। এতদিন জমি জট ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে রাজ্যের যে ৬১টি রেলপ্রকল্প থমকে ছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে জমি দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
চিংড়িহাটা মেট্রোর জট কাটল:
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দমদম-জোকা মেট্রো প্রকল্পের মাত্র ৬৬৬ মিটারের কাজ আটকে ছিল চিংড়িহাটায়। রাজ্য সরকার বদলের পরেই এই জটিলতা কেটেছে এবং কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, উন্নয়নের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্র একসঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের গতিতে কাজ করবে।
মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও লক্ষ্য:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবজি ৬১টি রেলওয়ে প্রজেক্ট অনুমোদন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে কেবল জমির অভাবেই এই কাজগুলো আটকে ছিল। আমরা দ্রুত জমি হস্তান্তর করার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছি। হিলি ও নন্দীগ্রামের মতো প্রকল্পগুলো আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।” পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্কর জানান, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও পূর্বতন সরকারের অসহযোগিতায় রেলওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাসের কাজ থমকে ছিল। এখন রাজ্যে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করার ফলে সমন্বয় সহজ হবে এবং কাজ দ্রুতগতিতে এগোবে।
নতুন দিশায় উন্নয়নের পথ:
অতীতে তৃণমূল সরকারের সঙ্গে রেলের কাজের সমন্বয় নিয়ে একাধিকবার সংঘাতের খবর সামনে এসেছে। এই বিষয়ে কুণাল ঘোষের মন্তব্যে সেই টানাপোড়েনের আভাস থাকলেও, বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায় রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ও রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলো যৌথভাবে কাজ করলে রাজ্যবাসী দ্রুত উন্নত পরিষেবা পাবেন। হিলি ও নন্দীগ্রামের মতো প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা শুধুমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই ঘটাবে না, বরং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনবে। এখন দেখার, এই ৬১টি প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তব রূপ নেয়।