হিমসাগর কিনে ঠকেছেন? আসল আম চেনার জাদুকরী উপায় জেনে নিন এই পদ্ধতিতে

বাঙালির গ্রীষ্মকালীন ফলের তালিকায় রাজা যদি কেউ হন, তবে তিনি নিঃসন্দেহে ‘হিমসাগর’। কিন্তু তীব্র চাহিদার সুযোগ নিয়ে অসাধু বিক্রেতারা প্রায়শই হিমসাগরের নামে অন্য জাতের আম গছিয়ে দেয়। বাজার থেকে কিনে আনার পর খাওয়ার সময় সেই ভুল ধরা পড়ে। তবে কিছু সহজ কৌশল জানা থাকলে দোকানদারের কারচুপিতে আর ঠকতে হবে না আপনাকে। কীভাবে চিনবেন আসল হিমসাগর? দেখে নিন তার খুঁটিনাটি:
১. আকার ও আকৃতি: আসল হিমসাগর সাধারণত মাঝারি থেকে বড় আকারের হয়। আকৃতিতে এটি ডিম্বাকৃতি বা গোলাকার হয়ে থাকে। আমের দুই প্রান্ত সামান্য চ্যাপ্টা হয় এবং বোঁটার দিকে একটি সুস্পষ্ট চঞ্চুর মতো ডগা থাকে।
২. ওজন: একটি পরিপক্ক স্বাভাবিক হিমসাগর আমের ওজন সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ গ্রামের মধ্যে থাকে। এর চেয়ে অস্বাভাবিক বড় আম হিমসাগর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
৩. খোসার রঙ ও গঠন: হিমসাগরের খোসা হয় মসৃণ, পাতলা এবং নরম। এটি খুব বেশি আঁশযুক্ত হয় না। পাকা হিমসাগরের রঙ হয় আকর্ষণীয় সোনালি-হলুদ। তবে খুব বেশি পেকে গেলে এর চামড়ায় ছোট ছোট ভাঁজ পড়তে পারে এবং রঙ হয়ে যায় গাঢ় হলুদ। কাঁচা অবস্থায় হালকা সবুজাভ আভা থাকলেও পরিপক্ক হলে সেই সবুজ রঙ আর থাকে না।
৪. সুগন্ধই আসল পরিচয়: হিমসাগরের সবথেকে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর তীব্র ও মিষ্টি সুগন্ধ। আম কেনার সময় নাকের কাছে ধরলেই এর স্বতন্ত্র ও মনোরম ঘ্রাণ টের পাওয়া যায়। স্বাদ এবং গন্ধের এই অনন্য সমন্বয়ই হিমসাগরকে অন্য আম থেকে আলাদা করে তোলে।
৫. আঁটি: হিমসাগরের আঁটি সাধারণ আমের তুলনায় ছোট থেকে মাঝারি আকারের হয়। আঁটিটি বেশ চ্যাপ্টা এবং পাতলা প্রকৃতির হয়ে থাকে।
সুতরাং, এবার বাজার করার সময় এই বিষয়গুলোর দিকে নজর রাখুন। দোকানদারের মিষ্টি কথায় না ভুলে আমের গড়ন, ওজন এবং গন্ধ পরখ করে কিনলেই বাড়িতে ফিরবে আসল হিমসাগর।