হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তা বলয়ে ভয়াবহ হামলা! এলোপাথাড়ি গুলিবর্ষণ, খতম বন্দুকবাজ

শনিবার সন্ধ্যায় আমেরিকার ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল ‘হোয়াইট হাউস’-এর বাইরে ঘটে গেল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিরাপত্তা বেষ্টনীর ঠিক কাছেই এক বন্দুকবাজ আচমকা এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করলে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। গুলির শব্দে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক এবং পর্যটকরা। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে হামলাকারীকে ঘটনাস্থলেই খতম করেছেন ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা।

ক্যামেরার সামনেই বিভীষিকা:
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ হোয়াইট হাউসের নর্থ লন চত্বরটি ছিল স্বাভাবিক। ঠিক সেই সময়েই পরপর গুলির আওয়াজে কেঁপে ওঠে এলাকা। ABC News-এর সাংবাদিক সেলিনা ওয়াং ঘটনার সময় সেখানে ভিডিও শুট করছিলেন। গুলির শব্দ শুনেই প্রাণ বাঁচাতে তিনি মাটিতে শুয়ে পড়েন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানান, মনে হচ্ছিল যেন কয়েক ডজন গুলি চলছে। NBC News-এর জুলি টির্সকিনসহ অন্যান্য সংবাদকর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে প্রেস ব্রিফিং রুমের দিকে দৌড় দেন। প্রত্যক্ষদর্শী কানাডার পর্যটক রিড এড্রিয়ান জানান, তাঁরা প্রায় ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শুনেছেন।

ব্যাগে অস্ত্র, পালটা জবাব এজেন্টদের:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, হামলাকারী একটি ব্যাগ নিয়ে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টের কাছে আসে। ব্যাগ থেকে আচমকাই অস্ত্র বের করে সে নিরাপত্তা রক্ষীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। বিপদ বুঝে ইউএস সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পালটা জবাব দেন। এই গুলির লড়াইয়ে একজন পথচারী গুরুতর জখম হয়েছেন। তবে সিক্রেট সার্ভিসের কমিউনিকেশন প্রধান অ্যান্টনি গুগলিয়েলমি নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।

বারবার নিশানায় ট্রাম্প, নিরাপত্তার কড়াকড়ি:
চলতি মাসে এটি দ্বিতীয় বড় হামলা। গত ২৫ এপ্রিল ট্রাম্পের ওপর হামলার চেষ্টার পর এই ঘটনা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কপালে ভাঁজ ফেলেছে। উল্লেখ্য, জুলাই ২০২৪ থেকে ট্রাম্পকে একাধিকবার নিশানা করা হয়েছে। বারবার নিজের জীবনের ওপর ঝুঁকি বাড়তে দেখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ‘ইস্ট উইং’-এ ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বিশেষ ‘ড্রোন-প্রুফ’ বলরুম ও ছয় তলাবিশিষ্ট আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার তৈরির কাজ শুরু করেছেন। যেখানে থাকছে অত্যাধুনিক মিলিটারি হাসপাতালও।

আপাতত পুরো এলাকা কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা।