ফলতায় তৃণমূলের ভরাডুবি? প্রথম রাউন্ডেই ৯ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে বিজেপি, এজেন্টহীন ঘাসফুল!

রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চর্চিত কেন্দ্র ফলতা। পুনর্নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই এল বড় চমক। প্রথম রাউন্ডের ফলাফল সামনে আসতেই কার্যত কোণঠাসা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড়ে তৃণমূলের এই শোচনীয় পারফরম্যান্স দেখে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গণনার প্রথম রাউন্ড শেষে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ৯,৫৩৪টি ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে, সিপিআইএম প্রার্থী শম্ভুনাথ কুর্মি ৪৪৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে এবং কংগ্রেস প্রার্থী ২২৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন। অবাক করার মতো বিষয় হলো, প্রথম রাউন্ড শেষে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান মাত্র ২১০ ভোট পেয়ে তালিকার চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছেন। অর্থাৎ, নিকটতম বাম প্রার্থীর চেয়েও বিজেপি প্রার্থী প্রায় ৯,০৮৬ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের দু’দিন আগে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের অপ্রত্যাশিত ‘পিছু হটা’র ঘোষণাই ঘাসফুল শিবিরের এমন বেহাল অবস্থার মূল কারণ। উন্নয়নের প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়ে তিনি লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ভোটের দিন তাঁর বাড়ির দরজায় তালা এবং তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় বন্ধ থাকায় জনমানসে স্পষ্ট বার্তা গিয়েছিল। এদিন গণনা কেন্দ্রেও তৃণমূলের কোনও এজেন্টের দেখা না মেলায় বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের এই শক্ত ঘাঁটিতে তাদের এমন অনুপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। গণনা কেন্দ্রের বাইরে বিজেপির কর্মীদের মধ্যে এখন থেকেই জয়ের উল্লাস শুরু হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ফলতা জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র। এখন শেষ পর্যন্ত ব্যবধান কত বড় হয়, সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক মহল।