‘অবৈধ অংশ কোথায়? মার্ক করে দেখান’, কলকাতা পুরসভার নোটিশ নিয়ে গর্জে উঠলেন অভিষেক

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোম্পানি এবং তাঁর আত্মীয়দের সম্পত্তির ওপর কলকাতা পুরসভার পাঠানো নোটিশ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য। পুরসভার একের পর এক নোটিশের প্রেক্ষিতে অবশেষে ১০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করলেন তৃণমূল সাংসদের আইনজীবী।

নোটিশ ঘিরে জটিলতা:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে শুরু করে তাঁর কোম্পানির একাধিক ঠিকানায় সম্প্রতি ১৭টি নোটিশ পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা। এর মধ্যে ১৪টি নোটিশ পাঠানো হয়েছে ৯ নম্বর বরো থেকে। এই সম্পত্তিগুলোর বিরুদ্ধে মূলত দুটি বড় অভিযোগ রয়েছে—‘বেআইনি নির্মাণ’ এবং ‘সম্পত্তির চরিত্র পরিবর্তন’। পুরসভার এই পদক্ষেপে অস্বস্তিতে তৃণমূলের একাংশ। এই পরিস্থিতির মাঝেই ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দেবলীনা বিশ্বাস।

মেয়রের মন্তব্য ও বিতর্ক:
পুরসভার এই কঠোর অবস্থানে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বেশ বিব্রত। বারবার এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই নোটিশ পাঠানোর ব্যাপারে তিনি কিছুই জানতেন না। যদিও পুরসভার অন্দরে ক্ষোভের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

কী বললেন অভিষেক?
পুরসভার এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিস্ফোরক মেজাজে বলেন, “যাঁরা এই প্রশ্ন তুলছেন, তাঁরা কলকাতা পুরসভাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, অবৈধ অংশটা ঠিক কোথায়? আগে নির্দিষ্ট করে অবৈধ অংশ মার্ক করে দেখাক, তারপরে আমার থেকে উত্তর নেবেন।” অর্থাৎ, পুরসভার অভিযোগকে যে তিনি মানছেন না, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
পুরসভা সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী নোটিশের উত্তর দেওয়ার জন্য এবং প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র জোগাড় করার জন্য কলকাতা পুরসভার কাছে ১০ দিন সময় চেয়েছেন। এই সময়ের মধ্যেই অভিষেকের আইনি দল পুরসভার অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

পুরসভার এই ‘অ্যাকশন’ কি নিছক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কোনো সমীকরণ? রাজনৈতিক মহলে এখন সেই জল্পনাই তুঙ্গে।