‘রাজনৈতিক নেতাদের কথায় কান দেবেন না’, বকরি ইদ নিয়ে কঠোর নির্দেশিকা মুসলিম সংগঠনের

সামনেই বকরি ইদ। আর এই উৎসবকে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় বার্তা দিল ‘তানজিম উলেমায়ে আহলে’ নামক এক মুসলিম সংগঠন। রাজ্যের বর্তমান নিয়ম ও আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংগঠনের নেতৃত্ব। একইসঙ্গে জনদুর্ভোগ এড়াতে রাস্তায় নামাজ পড়া ও লাউডস্পিকার ব্যবহারের বিষয়েও কড়া বার্তা দিয়েছে তারা।

শনিবার চুঁচুড়ায় এক সাংবাদিক বৈঠক করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মৌলানা কামরুদ্দিন কমর আলি, বাসুবাটির মাজার শরীফের পীরজাদা সৈয়দ সামিরুল ইসলাম এবং মুখপাত্র আদনান রাজা জানান, ইসলামে কোরবানির জন্য শুধু গরুই একমাত্র বিকল্প নয়। অন্যান্য পশুও কোরবানি দেওয়া যায়। তাই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে অন্য পশু কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

লাউডস্পিকার ও রাস্তায় নামাজ নিয়ে অবস্থান:
শুধুমাত্র কোরবানি নয়, ধর্মীয় আচার-আচরণ যেন সাধারণ মানুষের সমস্যার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার বার্তা দিয়েছে সংগঠনটি। মৌলানা কামরুদ্দিন বলেন, “মসজিদে লাউডস্পিকারের উচ্চশব্দে অন্যের অসুবিধা হতে পারে। তাই সব ধর্মীয় স্থান, এমনকি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও লাউডস্পিকারের শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।”

রাস্তায় নামাজ পড়ার বিষয়ে সংগঠনের যুক্তি, মুসলিমরা সাধারণত মসজিদে নামাজ পড়েন। কিছু জায়গায় ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে সাময়িক নামাজ হলেও, রাস্তা আটকে মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করা কখনোই কাম্য নয়।

রাজনৈতিক নেতাদের থেকে সাবধান:
সংগঠনের পক্ষ থেকে হুগলি তথা রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—কোনো পরিস্থিতিতেই যেন কেউ আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। মৌলবি বা ইমামদের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তারা আরও বলেন, “রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় মুসলিমদের বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করেন। তাই এই ধর্মীয় বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন নেই। সরকার যে নির্দেশিকা দিয়েছে, তা মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।”

বকরি ইদকে সামনে রেখে মুসলিম সংগঠনের এই সুচিন্তিত বার্তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ও জনদুর্ভোগ কমাতে বিশেষ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।