বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরসভার কাছে চাইলেন সময়সীমা

কলকাতার কালীঘাট এবং শান্তিনিকেতনের বাড়ি নিয়ে কলকাতা পৌরনিগমের কড়া নোটিসের পর এবার সুর নরম করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বাড়ির তথাকথিত ‘বেআইনি’ অংশ ভাঙা ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত নোটিসের প্রেক্ষিতে, তথ্য সংগ্রহের জন্য এবার আইনজীবী মারফত পৌরনিগম কর্তৃপক্ষের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে আবেদন করলেন তিনি।
পুরসভাকে চিঠি:
পৌরনিগম সূত্রে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর পাঠানো ওই চিঠিটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তবে সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি চূড়ান্ত করার আগে তা পুরসভার কমিশনারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। কমিশনারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঠিক কতটা সময় দেওয়া হবে।
কেন এই নোটিস?
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই কলকাতা পৌরনিগমের পক্ষ থেকে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি এবং শান্তিনিকেতনের বাড়ির ঠিকানায় দুটি পৃথক নোটিস পাঠানো হয়। পুরসভার অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ওই বাড়িগুলোতে বেশ কিছু নির্মাণ কাজ হয়েছে এবং মূল নকশার বাইরের অংশ ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়েছে।
বিশেষ করে ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোড এবং ১২১ কালীঘাট রোডের যে বাড়িতে ‘অভিষেক হার্ডওয়্যার’ দোকানটি অবস্থিত (যা অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে), সেখানেও বেশ কিছু বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ তুলেছে পুরনিগম। কলকাতা পৌরনিগমের ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী, ওই বাড়িগুলোর বেআইনি অংশ আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পুরনিগম নিজেরাই অভিযান চালিয়ে সেই অংশ ভেঙে ফেলবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এর আগে সাংবাদিকরা যখন এই বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, তখন বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন অভিষেক। তিনি পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন, “কলকাতা পৌরনিগমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, অবৈধ অংশটা কোথায়।” কিন্তু সেই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়ে তাঁর এই আবেদন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।