গৃহবধূ ও নাবালিকাকে বাংলাদেশে পাচার! গ্রেফতার তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য

কোচবিহারের এক গৃহবধূ ও তাঁর নাবালিকা কন্যাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশে পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে গঙ্গারামপুর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য আনারুল মিঞাকে। শুক্রবার রাতে হিলি থানার পুলিশের একটি বিশেষ দল গঙ্গারামপুরের বৈকুণ্ঠপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে। শনিবার ধৃতকে বালুরঘাট আদালতে তোলা হলে বিচারক ৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কোচবিহারের ওই গৃহবধূ নিজের নাবালিকা কন্যাকে নিয়ে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। নিখোঁজের কিছুদিন পর বাংলাদেশ থেকে ওই গৃহবধূ পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে জানান, তাঁকে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং মুক্তিপণের দাবিতে নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠানোর পরই পুলিশের দ্বারস্থ হন।

কীভাবে ফাঁদ পাতে পাচারকারীরা?
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গঙ্গারামপুরের দুলাল মিঞার সাথে ওই গৃহবধূর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। গৃহবধূকে কৌশলে গঙ্গারামপুরে নিয়ে এসে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাচার করা হয়। পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই গোটা প্রক্রিয়ার নেপথ্যে ছিল তৃণমূল নেতা আনারুল মিঞার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী পাচারচক্র। সীমান্ত এলাকার কিছু স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশেই এই পাচার সম্ভব হয়েছিল।

উদ্ধার ও বর্তমান পরিস্থিতি:
পরবর্তীতে বিএসএফ-এর সক্রিয়তায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ওই মা ও কন্যাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় পাচারচক্রের আরও দুই সদস্যকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল, তবে মূল অভিযুক্ত আনারুল মিঞা এতদিন গা ঢাকা দিয়ে ছিল। অবশেষে পুলিশের জালে এল সে। এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও বড় কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কি না, তা নিয়ে তদন্ত জারি রেখেছে হিলি থানা। তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।