১৫ জুন কাইঞ্চি ধামের প্রতিষ্ঠা দিবস! কীভাবে পৌঁছাবেন নিম করোলি বাবার আশ্রমে? জেনে নিন বিস্তারিত

ভক্তদের জন্য প্রতি বছর ১৫ই জুন একটি বিশেষ দিন। প্রতি বছরের মতো এবছরও মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে কাইঞ্চি ধামের প্রতিষ্ঠা দিবস বা অভিষেক দিবস। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, কাইঞ্চি ধামে হনুমানজি এবং অন্যান্য বিগ্রহের অভিষেকের দিনটি স্বয়ং নিম করোলি বাবা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। ভক্তদের কাছে এই স্থানটি কেবল একটি আশ্রম নয়, বরং ভক্তি ও ইচ্ছাপূরণের এক অমোঘ কেন্দ্র।

প্রতিষ্ঠা দিবসের তাৎপর্য ও বড় মঙ্গলের মাহাত্ম্য
১৯৭৩ সালের ১০ই সেপ্টেম্বর মহাসমাধি লাভ করেন বাবা নিম করোলি। তাঁর ভস্ম কাইঞ্চি ধামেই স্থাপন করা হয়েছে। বাবার ভক্তরা ১৯৭৪ সালে এই মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করেন। বিশেষ কাকতালীয়ভাবে, এবছর ১৫ই জুন প্রতিষ্ঠা দিবসের ঠিক পরের দিনই ১৬ই জুন ‘বড় মঙ্গল’। হিন্দু ধর্মে বড় মঙ্গলে ভগবান হনুমানের পূজা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। ভক্তরা নিম করোলি বাবাকে হনুমানজিরই অবতার হিসেবে গণ্য করেন, তাই প্রতিষ্ঠা দিবস ও বড় মঙ্গলের এই মিলনক্ষণে কাইঞ্চি ধামে প্রতি বছর ভক্তদের ঢল নামে।

কীভাবে পৌঁছাবেন কাইঞ্চি ধামে?
নৈনীতালের অদূরে অবস্থিত এই পবিত্র আশ্রমে পৌঁছানো খুব একটা কঠিন নয়। আপনার যাত্রার সুবিধার জন্য রইল তিনটি পথের হদিস:

সড়কপথ: সড়কপথে যেতে চাইলে বাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে যেতে পারেন। মূলত দিল্লি বা সমতল থেকে সড়কপথে পৌঁছাতে ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।

রেলপথ: ট্রেনে যেতে চাইলে নিকটতম স্টেশন হলো কাঠগোদাম। সেখান থেকে ট্যাক্সি বা ক্যাব ভাড়া করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় কাইঞ্চি ধামে।

আকাশপথ: যারা আকাশপথে ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক, তাদের পন্তনগর বিমানবন্দরে নামতে হবে। বিমানবন্দর থেকে ক্যাব বা গাড়িতে করে আশ্রমে পৌঁছানো সুবিধাজনক।

আশ্রমে প্রার্থনার নিয়ম
বাবা নিম করোলি কোনো জটিল আচার-অনুষ্ঠান বা জাঁকজমকপূর্ণ পূজায় বিশ্বাসী ছিলেন না। তিনি বরাবরই ‘প্রেম, সেবা এবং নিঃস্বার্থপরতা’-কে পরম ধর্ম বলে প্রচার করেছেন। কাইঞ্চি ধামে প্রার্থনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। আশ্রমের ভেতরে বাবার মূর্তি বা ছবির সামনে শান্ত হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ করে নিজের সমস্যা বা মনের ইচ্ছার কথা পরিষ্কারভাবে বাবাকে জানান।

ভক্তদের অটুট বিশ্বাস, কাইঞ্চি ধামে এসে কেউ কখনো খালি হাতে ফেরেন না। ভক্তিভরে প্রার্থনা করলে প্রতিটি ইচ্ছাই পূরণ হয়। আপনিও যদি এই বিশেষ দিনে বাবার আশ্রমে যাওয়ার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আগে থেকেই যাতায়াতের ব্যবস্থা ও থাকা-খাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।