অ্যাটেনশন! আপনার আইনজীবী কি আসল ডিগ্রিধারী? বিসিআই-এর চাঞ্চল্যকর তথ্যে শোরগোল

দেশের বিচার ব্যবস্থা ও আইন পেশা নিয়ে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (BCI)-এর চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আইনজীবী মনন কুমার মিশ্র জানিয়েছেন, দেশের আদালতগুলোতে প্র্যাকটিস করা আইনজীবীদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশেরই ডিগ্রি জাল। এই ভুয়া সনদের ভিত্তিতেই তারা কালো কোট ও ব্যান্ড পরে আইন পেশার মতো একটি পবিত্র পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

কীভাবে সামনে এল এই জালিয়াতি?
BCI সূত্রে খবর, আইনজীবীদের ডিগ্রি যাচাই করার জন্য যখন বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখন প্রায় ৪০ শতাংশ আইনজীবী সেই যাচাইকরণ ফর্ম পূরণ করতে অস্বীকার করেন। এই বিপুল সংখ্যক আইনজীবীর নথি জমা না দেওয়াতেই তাদের ডিগ্রি নিয়ে বড়সড় সন্দেহ দানা বাঁধে। বিসিআই চেয়ারম্যান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিরা হয় ডিগ্রি কিনেছেন, নতুবা জাল নথির সাহায্য নিয়ে আইন পেশায় প্রবেশ করেছেন।

প্রধান বিচারপতির তোপ ও ‘তেলাপোকা’ বিতর্ক
সম্প্রতি একটি মামলার শুনানিকালে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত আইনজীবীদের ডিগ্রি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই সময় তিনি কিছু ব্যক্তিকে ‘তেলাপোকা’ বলে কটাক্ষ করেন, যারা ‘সক্রিয়তা’ বা অ্যাক্টিভিজমের আড়ালে বিচার ব্যবস্থার ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। তবে পরবর্তী সময়ে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন যে, তার এই মন্তব্য শুধুমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই ছিল, যারা জাল ডিগ্রি নিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করছেন।

কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত
বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বার কাউন্সিল। বিসিআই চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, আদালতের পবিত্রতা রক্ষা ও জাল ডিগ্রিধারীদের চিহ্নিত করতে বিচার বিভাগের সঙ্গে তারা যৌথভাবে কাজ করছেন। ডিগ্রি যাচাইয়ের জন্য খোদ প্রধান বিচারপতি সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) দিয়ে তদন্ত করানোর কথাও ভাবছেন।

দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জাল ডিগ্রিধারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই কোনো বড় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।