পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ আতঙ্ক! এক মাসেই ভারতীয় ব্যাংক থেকে এনআরআই-দের তোলা ২ বিলিয়ন ডলার!

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-মার্কিন উত্তেজনা এখন শুধু যুদ্ধের দামামাতেই সীমাবদ্ধ নেই, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের অর্থনীতির ওপর। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র মার্চ মাসেই অনাবাসী ভারতীয়েরা (এনআরআই) তাদের ভারতীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার তুলে নিয়েছেন। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই তথ্য উঠে আসায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে অর্থনৈতিক মহলে।

আমানতের পরিমাণে বড় পতন
আরবিআই-এর তথ্য বলছে, এনআরআই-দের এই অর্থ উত্তোলনের ফলে গত মাসে ভারতের মোট আমানতের পরিমাণ ১৬৭.৫৮ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ১৬৫.৬৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিকভাবে, এনআরআই আমানত প্রবাহ আগের অর্থবছরের ১৬.১৬ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে চলতি অর্থবছরে ১৪.৪১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

কোন অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রভাব বেশি?
মূলত পশ্চিম এশিয়ায় কর্মরত ভারতীয়েরা যে অ্যাকাউন্টগুলো ব্যবহার করেন, সেগুলোতে এই আমানত হ্রাসের হার সবচেয়ে বেশি:

এনআরই (NRE) অ্যাকাউন্ট: আমানত ৯৯.৭৭ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮.৫৬ বিলিয়ন ডলারে।

এনআরও (NRO) অ্যাকাউন্ট: আমানত ৩৪.০৯ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে হয়েছে ৩৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার।

তবে কিছুটা ব্যতিক্রম দেখা গেছে এফসিএনআর(বি) (FCNR-B) অ্যাকাউন্টে, যেখানে আমানত সামান্য বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩.৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

কেন এই পরিস্থিতি?
ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধের দ্রুত কোনো সমাধান না হওয়ার আশঙ্কায় এনআরআই-দের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা কাজ করছে। জীবন ও উপার্জনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা তাদের সঞ্চিত অর্থ তুলে নিচ্ছেন।

অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় যদি এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এর ফলে:
১. ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য সংকট দেখা দিতে পারে।
২. বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ (Forex Inflow) বাধাগ্রস্ত হতে পারে, যা রুপির মানকেও চাপে ফেলতে পারে।
৩. এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেলের ক্রমবর্ধমান মূল্যের সাথে যুক্ত হয়ে এটি দেশের মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

এখন দেখার বিষয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কী ধরনের নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।