আরবিআই-এর বিশাল লভ্যাংশ হস্তান্তর! ‘এটি দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকির কারণ’, সরব পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) কেন্দ্রীয় সরকারকে ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকার রেকর্ড লভ্যাংশ হস্তান্তরের পরই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা। দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের রিজার্ভ তহবিল থেকে এত বিশাল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি একে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।

কী বললেন পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী?
পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রীর দাবি, আরবিআই-এর মোট ৪ লক্ষ কোটি টাকার আয়ের মধ্যে প্রায় ২.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা সরকারকে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আরবিআই-এর ইতিহাসের এটিই সবচেয়ে বড় লভ্যাংশ হস্তান্তর। হরপাল সিং চিমার কথায়, “যখন মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষ জর্জরিত, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশাল অর্থ নেওয়ার বিষয়টি গুরুতর উদ্বেগের।”

কেন তিনি এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করছেন?
মন্ত্রী চিমা স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজস্ব ঘাটতি কমানো অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তা কখনোই আরবিআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক শক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার বিনিময়ে হওয়া উচিত নয়। তার মূল যুক্তিগুলো হলো:

অর্থনৈতিক সুরক্ষা: সংকটের সময়ে আরবিআই দেশের অর্থনৈতিক অভিঘাত শোষক (Shock Absorber) হিসেবে কাজ করে। রিজার্ভ থেকে অতিরিক্ত অর্থ সরিয়ে নিলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

রাজ্যগুলোর পরিস্থিতি: কেন্দ্রীয় সরকার যদি অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে, তবে রাজ্যগুলোও একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এক্ষেত্রে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিজস্ব সক্ষমতা অটুট থাকা জরুরি।

আরবিআই গভর্নরকে বিশেষ আবেদন
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের স্বায়ত্তশাসন ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী সরাসরি আরবিআই গভর্নরের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আবেদন করছি যেন আরবিআই-এর প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও শক্তি সর্বাগ্রে বজায় থাকে। একটি দুর্বল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিয়ে ভারত শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ার স্বপ্ন দেখতে পারে না।”

বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ
অর্থনীতিবিদদের মতে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে সরকারের বড় অঙ্কের লভ্যাংশ পাওয়ার ঘটনা প্রায়ই বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে যেমন এটি সরকারের রাজস্ব ঘাটতি সামলাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে সমালোচকরা একে ভবিষ্যতের যেকোনো বড় আর্থিক সংকটের প্রস্তুতির পথে বাধা হিসেবে দেখেন।

সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনটি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অর্থনৈতিক ইস্যুতে পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রীর অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এটি পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে এবং বর্তমান আর্থিক নীতির ওপর বিতর্ক পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।