উত্তরাখণ্ড থেকে উত্তর প্রদেশ! ওয়াকফ সম্পত্তিতে বড়সড় কড়াকড়ি, ৩১ হাজারের বেশি নিবন্ধন বাতিল

উত্তর প্রদেশে ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে শুরু হওয়া বড় ধরনের ‘ডিজিটাল শুদ্ধি অভিযানে’ বড়সড় ধাক্কা খেলেন বহু মুতাওয়াল্লি। সরকারি ‘উমিদ’ (UMID) পোর্টালে নথিপত্র যাচাইয়ের সময় ব্যাপক ত্রুটি ধরা পড়ায় এখন পর্যন্ত ৩১,৩২৮টি ওয়াকফ সম্পত্তির নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।
কী জানা যাচ্ছে?
কেন্দ্রীয় সরকারের ‘উমিদ’ পোর্টালে এখন পর্যন্ত ১,১৮,৩০২টি সম্পত্তির নিবন্ধন হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ৫৩,৭১১টি সম্পত্তি অনুমোদনের মুখ দেখেছে। ২০,৫৪৭টি সম্পত্তির নথিপত্র বর্তমানে যাচাইয়ের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে সবথেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, ৩১,৩২৮টি সম্পত্তির ওয়াকফ দাবি সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বহু পুরনো কবরস্থান এবং দরগাহও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
কেন বাতিল হচ্ছে নিবন্ধন?
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, অনেক সম্পত্তির ক্ষেত্রেই গুরুতর অসঙ্গতি রয়েছে:
রেকর্ডের অমিল: ওয়াকফ বোর্ড এবং রাজস্ব দপ্তরের নথিপত্রের মধ্যে বিস্তর ফারাক।
এলাকার গরমিল: নথিতে উল্লেখিত জমির আয়তন এবং বাস্তবে তার মিল নেই।
ডাবল এন্ট্রি: একই সম্পত্তি ভুলবশত দুটি আলাদা ওয়াকফ বোর্ডের অধীনে নিবন্ধিত হয়ে আছে।
কারিগরি ত্রুটি: নথিপত্রে প্রচুর ভুল তথ্য ও তথ্যপ্রমাণাদির অভাব।
কোন জেলায় প্রভাব বেশি?
নিবন্ধন বাতিলের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জৌনপুর (১,৯৩৮টি)। এর পরেই রয়েছে বারাবাঁকি (১,৫২১টি), মুজাফফরনগর (১,৫১০টি), আলিগড় (১,০৬১টি), বস্তি (১,০০০টি), উন্নাও (৯০৮টি), সীতাপুর (৯০৬টি), হারদোই (৮৯১টি), আজমগড় (৮৮৬টি) এবং লখনউ (৮৭৫টি)।
শেষ সুযোগ কি হাতে আছে?
নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হলেও, ট্রাইব্যুনাল এর মধ্যে সর্বোচ্চ সময় মঞ্জুর করেছে। আগামী ৫ই জুন এই অতিরিক্ত সময়সীমা শেষ হবে। ওয়াকফ বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, মুতাওয়াল্লিদের হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন আছে। এই সময়ের মধ্যে সঠিক কাগজপত্রসহ ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে হবে। অন্যথায়, ওই সম্পত্তিগুলি পোর্টাল থেকে স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হবে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ওয়াকফ (সংশোধন) আইন, ২০২৫’ অনুযায়ী এই পোর্টালে নিবন্ধন এখন বাধ্যতামূলক। মুতাওয়াল্লিদের এখন আইনগতভাবে ট্রাইব্যুনালের সাহায্য নেওয়ার পথ খোলা থাকলেও, পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ বলে মনে করছেন ওয়াকফ বোর্ডের কর্মকর্তারা।