ফি বৃদ্ধিতে আর ডিওইর অনুমোদনের প্রয়োজন নেই! বেসরকারি স্কুলগুলোর জন্য বড় স্বস্তি দিল দিল্লি হাইকোর্ট

বেসরকারি ও অনুদানবিহীন স্কুলগুলোর ফি নির্ধারণের ক্ষমতা নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দিল্লি হাইকোর্ট। বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভাম্ভানির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ফি বাড়ানোর জন্য স্কুলগুলোকে শিক্ষা অধিদপ্তর (DoE)-এর কাছ থেকে পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্কুলগুলোর আর্থিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হলো।

আদালতের ঐতিহাসিক রায়
দিল্লি স্কুল শিক্ষা আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১৭(৩)-এর ব্যাখ্যা দিয়ে আদালত জানিয়েছে, একটি বেসরকারি ও স্বীকৃত স্কুলের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত মানসম্মত শিক্ষা প্রদান। সেই লক্ষ্য পূরণে ফি বাড়ানোর ক্ষমতা তাদের রয়েছে। তবে শর্ত হলো, শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই সেই ফি কাঠামো শিক্ষা অধিদপ্তরের কাছে জমা দিতে হবে।

কখন অনুমোদনের প্রয়োজন?
হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিক্ষা অধিদপ্তর কেবল তখনই ফি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করতে পারে যদি:

কোনো স্কুল মাঝপথে বা চলমান শিক্ষাবর্ষে হঠাৎ ফি বাড়াতে চায়।

স্কুলটি যদি শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বা মুনাফাখোরিতে লিপ্ত হয়।

তবে, আদালত জোর দিয়ে বলেছে যে, স্কুলগুলোর উদ্বৃত্ত তহবিল থাকলেই তাকে ‘মুনাফাখোরি’ বলা যাবে না। পূর্ণাঙ্গ আর্থিক নিরীক্ষা (Audit) ছাড়া কোনো স্কুলকে বাণিজ্যিকীকরণের দায়ে অভিযুক্ত করা চলবে না।

অভিভাবকদের জন্য বড় স্বস্তি
হাইকোর্ট স্কুলগুলোর স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখলেও, সাধারণ অভিভাবকদের কথা মাথায় রেখে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষের কোনো বকেয়া ফি বা বর্ধিত ফি কোনো স্কুলই পিছিয়ে গিয়ে (Retrospective) আদায় করতে পারবে না। এর অর্থ হলো, স্কুলগুলো তাদের প্রস্তাবিত বর্ধিত ফি শুধুমাত্র ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে অর্থাৎ পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর করতে পারবে। এতে অভিভাবকরা আগের বছরের বকেয়া ফি দেওয়ার বোঝা থেকে মুক্তি পেলেন।

শিক্ষা দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বসন্ত কুঞ্জের দিল্লি পাবলিক স্কুলের দায়ের করা একগুচ্ছ মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দেয় আদালত। রায়ে বিচারপতি ভাম্ভানি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, একটি সরকারি কর্তৃপক্ষ আইন ও বিধানের তোয়াক্কা না করে যেভাবে বেসরকারি স্কুলের দৈনন্দিন আর্থিক কাজে হস্তক্ষেপ করছিল, তা অনভিপ্রেত। আদালতের মতে, স্কুল কীভাবে তাদের আর্থিক পরিচালনা করবে তা ঠিক করে দেওয়া শিক্ষা অধিদপ্তরের কাজ নয়, বরং তাদের ভূমিকা কেবল একজন নিয়ন্ত্রক হিসেবে হওয়া উচিত।

বিশ্লেষণ:
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় দিল্লির বেসরকারি স্কুলগুলোর জন্য একটি বড় জয়। দীর্ঘদিন ধরে স্কুলগুলো অভিযোগ করছিল যে, রাজনৈতিক প্রভাব ও অযৌক্তিক বাধার কারণে তারা তাদের আর্থিক পরিকল্পনা করতে পারছিল না। অন্যদিকে, হাইকোর্টের এই রায়ে স্কুলের ফি কাঠামো আরও স্বচ্ছ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে, কারণ প্রতিটি স্কুলকে এখন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই ফি-এর বিস্তারিত বিবরণ দাখিল করতে হবে।