বিয়ে বাঁচাতে অভিনব কাণ্ড! ডিজেল না পেয়ে জেনারেটর ঠেলে পাম্পে নিয়ে গেলেন বরযাত্রীরা

বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্তে হঠাৎ অন্ধকার! জেনারেটরের ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছিল বিহারের মুজাফফরপুর জেলার আহিয়াপুর এলাকার মিঠানপুরার বাসিন্দা যোগিন্দর রায়ের পরিবারের। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পরিবারটি এমন এক অভিনব রাস্তা বেছে নিল, যা দেখে রীতিমতো তাজ্জব বনে গেছেন স্থানীয়রা। সেই ঘটনার ভিডিও এখন ইন্টারনেটে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
যোগিন্দর রায়ের বাড়িতে তখন বিয়ের সানাই বাজছিল, আত্মীয়-স্বজন ও অতিথিদের ভিড়ে উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। হঠাৎই ছন্দপতন—জেনারেটরের ডিজেল ফুরিয়ে আসায় বিয়ের অনুষ্ঠান অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়। তড়িঘড়ি পরিবারের এক যুবককে খালি গ্যালন দিয়ে পাঠানো হয় নিকটস্থ পেট্রোল পাম্পে। কিন্তু নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে পাম্প কর্মীরা গ্যালনে ডিজেল দিতে সাফ অস্বীকার করেন।
শেষমেশ জেনারেটরই পাম্পে!
বাড়ি ফিরে ওই যুবক বিষয়টি জানালে পরিবারের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে। বিয়ের লগ্ন হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে মরিয়া হয়ে ওঠেন সকলে। এরপরই পরিবারের ৪-৫ জন যুবক মিলে এক অদ্ভুত কিন্তু কার্যকর সিদ্ধান্ত নেন। তারা ঠিক করেন, ডিজেল যখন আসছে না, তখন জেনারেটরকেই ডিজেলের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
যেমন ভাবা, তেমন কাজ। ভারী জেনারেটরটি ঠেলতে ঠেলতে তারা সোজা পৌঁছে যান পেট্রোল পাম্পে! রাস্তায় বিশাল জেনারেটর ঠেলার এই দৃশ্য দেখে পথচলতি মানুষ ও পাম্পের কর্মীরা থমকে দাঁড়ান। এরপর সরাসরি পাম্পের নজলের সামনে জেনারেটর রেখে তাতে ডিজেল ভরেন যুবকরা।
ভাইরাল ভিডিও ও বিতর্ক
ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন এই পুরো বিষয়টি মোবাইল ক্যামেরায় বন্দি করেন। ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। এই ‘দেশি বুদ্ধি’ দেখে কেউ কেউ বাহবা দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পেট্রোল পাম্পের কঠোর নিয়ম ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত বিয়েটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবারটি।